কৃষি প্রযুক্তিতে অগ্রগতি ও রেকর্ড মজুদ

‘সুপার’ এল নিনোর ধাক্কা সামলাতে প্রস্তুত বৈশ্বিক খাদ্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে নানা দেশে খরা ও বৈরী আবহাওয়া দেখা দিয়েছে।

তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক খাদ্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল ও সহনশীল অবস্থায় রয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং আন্তর্জাতিক কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, রেকর্ড শস্য মজুদ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নতুন রফতানিকারক দেশের উত্থানের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। খবর রয়টার্স।

এফএওর তথ্যানুযায়ী, আশির দশক থেকে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের গতি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ছাপিয়ে গেছে। গত কয়েক দশকে উচ্চ ফলনশীল বীজ, সুষম সার প্রয়োগ, উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে ধান, গম, ভুট্টা ও সয়াবিনের মতো প্রধান ফসলের উৎপাদন বহু গুণ বেড়েছে।

অবশ্য চলমান এল নিনোর প্রভাবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এরই মধ্যে খরা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, এবার প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এশিয়ায় তীব্র খরা ও আমেরিকা অঞ্চলে অতিবৃষ্টির ঝুঁকি বাড়তে পারে। ১৯৯৭-৯৮ ও ২০১৫-১৬ সালের এল নিনোর সময়ে ভারত, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চাল, চিনি ও পাম অয়েলের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

তবে এবারের বৈশ্বিক চিত্র বেশ ভিন্ন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। গমের প্রধান ভোক্তা দেশ চীন একাই বৈশ্বিক মজুদের প্রায় অর্ধেক ধরে রেখেছে। আবার আন্তর্জাতিক চাল রফতানির ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা ভারতের কাছে যে পরিমাণ চালের মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে টানা এক বছরের বৈশ্বিক চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

একই সঙ্গে নতুন রফতানিকারক দেশগুলোর উত্থান ও সরবরাহ আন্তর্জাতিক বাজারকে টেকসই করেছে। গত দুই দশকে ব্রাজিল সয়াবিন রফতানিতে বিশ্বের শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে। ১৯৯৭-৯৮ সালের তুলনায় দেশটির সয়াবিন রফতানি বেড়েছে ১৩ গুণেরও বেশি। একই সময়ে রাশিয়ার গম রফতানি ছিল মাত্র ১০ লাখ টন। সেখান থেকে বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টনে। ফলে নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হলেও এসব দেশের অতিরিক্ত সরবরাহ বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।

একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও শস্যের জাতের উন্নয়নও বড় ভূমিকা রাখছে। খরা ও তাপসহিষ্ণু শস্যের নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ফলন ভালো রাখতে সাহায্য করছে। কৃষকরা সঠিক সময়ে বীজ বপন, সার প্রয়োগ ও সেচ দিতে পারছেন।

মধ্যপ্রাচ্য ও কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সার ও জ্বালানির দাম কিছুটা বাড়লেও বিশাল মজুদ এবং প্রযুক্তির বিকাশ বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তাকে সুরক্ষিত রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।

আরও