জানুয়ারি-মার্চ

সিমেন্ট খাতের তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির আয় কমেছে

দেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে সিমেন্ট খাতের সাতটি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে।

এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আরামিট সিমেন্টের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। উৎপাদনে থাকা ছয় কোম্পানির মধ্যে মেঘনা সিমেন্ট মিলস বাদে বাকি পাঁচটির আয় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমে গেছে। মূলত দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিতে নির্মাণকাজে ধীরগতির প্রভাবে সিমেন্ট বিক্রি কমে যাওয়ার ফলে কোম্পানিগুলোর আয় কমে গেছে।

কনফিডেন্স সিমেন্টের চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ১১৭ কোটি টাকা আয় হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১২৮ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ১২ কোটি ৭২ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৭ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৮৮ পয়সা।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্টের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১১ টাকা ২৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ টাকা ৭৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)।

ক্রাউন সিমেন্টের চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯১ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৩ পয়সা।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ক্রাউন সিমেন্টর পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৫২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৭৪ পয়সা।

হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩৬২ কোটি টাকা আয় হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪২৯ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ১৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৩৮ পয়সা।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়েলসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ টাকা ১৭ পয়সা।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৮০৪ কোটি টাকা আয় হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৫১ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ১১২ কোটি ১৮ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৩৯ কোটি ৬ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯৭ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ২০ পয়সা।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ৪০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের পর্ষদ। এর মধ্যে ১৮ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ২৯ পয়সা।

মেঘনা সিমেন্ট মিলসের চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা আয় হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ৫৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৬ টাকা ৯৮ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৫ টাকা ৪৮ পয়সা।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি মেঘনা সিমেন্ট মিলসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৬ টাকা ৫৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ১৬ পয়সা।

প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলসের চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৫৯৪ কোটি টাকা আয় হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭২৪ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮০ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩১ পয়সা।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ৪ পয়সা।

আরও