মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও জলপথের সংকটে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের খরচ ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাগরে জাহাজের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়ায় বিশাল আকৃতির তেলবাহী ট্যাংকারের (ভিএলসিসি) আয় হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে একটি সুপারট্যাংকারের দৈনিক গড় আয় সাড়ে ৬ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ট্যাংকারের দৈনিক ভাড়া ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসে। জাহাজ ভাড়া অস্বাভাবিক বাড়ায় ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা জ্বালানি তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ক্লার্কসনের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহেই তেলবাহী ট্যাংকারের গড় দৈনিক আয় ৪০ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬ লাখ ৪২ হাজার ডলারে ঠেকেছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য সাময়িকী লয়েডস লিস্টের ২০২৩-২৫ সালের ট্যাংকার বাজার সম্পর্কিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই সময় মেক্সিকো উপসাগর থেকে চীনগামী ভিএলসিসি ট্যাংকারগুলোর স্পট চার্টারিং রেট দৈনিক ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের কাছাকাছি ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি ও বাব এল-মানদেব জলপথে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হচ্ছে। বাড়তি পথ, জাহাজের জ্বালানি ডিজেলের উচ্চমূল্য ও যুদ্ধের ঝুঁকি বাবদ চড়া বীমা মাশুলের কারণেই আয় ও ভাড়ার এ বিশাল উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।
কিছু নির্দিষ্ট নৌ-রুটে ট্যাংকারের আয় আরো অনেক বেশি। ওমান থেকে দক্ষিণ কোরিয়াগামী একটি সুপারট্যাংকার দৈনিক গড়ে প্রায় ৮ লাখ ৪৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করছে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে কড়াকড়ি থাকায় তেল সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। অনেক ট্যাংকার ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে সাগরে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করছে। ফলে সমুদ্রেই দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে জাহাজগুলো। বর্তমানে বিশ্বের মোট ভিএলসিসি ট্যাংকার বহরের প্রায় ১৫ শতাংশ ওমান উপসাগরে আটকা আছে, যা জুলাইয়ের শুরুতে ছিল ১০ শতাংশ।