বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের প্রধান প্রধান সূচকে দেখা যাচ্ছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। জাপানের অর্থনীতিতে সরকারি প্রণোদনার সম্ভাবনা এবং চীনে বাণিজ্য বিবাদের চাপ সামলে পূর্বাভাসের চেয়ে বাড়তি প্রবৃদ্ধি অর্জনের তথ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে বৃহৎ শেয়ারসূচকগুলোর অধিকাংশই সাপ্তাহিক বাজার শুরু করেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায়। খবর রয়টার্স।
জাপানে এদিন নিক্কেই ২২৫ সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। বর্তমানে এ সূচক অবস্থান করছে রেকর্ড উচ্চতায়। দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও জাপান ইনোভেশন পার্টির মধ্যে জোট সরকার গঠনের চুক্তি বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশ্যা করেছে। এর ফলে প্রণোদনাবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত সানায়ে তাকাইচির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথের অন্তরায় অনেকটাই দূর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউরোপে দিনব্যাপী লেনদেনের শুরুতেই স্টক্স ৬০০ সূচক বেড়েছে দশমিক ৭ শতাংশ। ওয়াল স্ট্রিটে লেনদেন শুরুর আগে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দশমিক ৪ শতাংশ এবং প্রযুক্তিখাতনির্ভর নাসডাক ১০০ সূচক দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। এ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ব্যাংকগুলো নিয়ে বাজারে সৃষ্ট উদ্যোগ কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
লেনদেন শুরুর আগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চীনের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ, যা পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। দেশটিতে এ সময় শিল্প উৎপাদনও বেড়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। এতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। বিশেষ করে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্যবিবাদের প্রেক্ষাপটে বিষয়টিকে ভালো ইংগিত হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওয়াল স্ট্রিটে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারে আস্থা দেখা যাচ্ছে। কারণ বাজারের অনেক কিছুই এখন নির্ভর করছে এ খাতের উচ্চ মুনাফার ধারাবাহিকতার ওপর। এ বিষয়ে ব্রিটিশ মার্চেন্ট ব্যাংক আরবাথনট ল্যাথামের গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজি বিভাগের পরিচালক জেসন দা সিলভা বলেন, ‘আমি বলব না যে বিগ টেক প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে প্রাথমিক বিনিয়োগের ধাপে রয়েছে, তবে আমি মনে করি এখনো ভালো রিটার্নের পর্যাপ্ত সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
তার প্রতিষ্ঠান এখনই এআই খাত থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছে না বলে আরো জানালেন তিনি।
এলএসইজি আইবিইএসের বিশ্লেষকরা চলতি প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) এসঅ্যান্ডপি ৫০০ তালিকার অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট আয় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন।
কারমিনিয়াক ইনভেস্টমেন্ট কমিটির সদস্য কেভিন থোজে মনে করছেন, ক্ষতিগ্রস্ত বা অতিমূল্যায়িত কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে এআই বাবলের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবুও এখনই এআই খাত থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার সময় আসেনি।