ইউরোপে চার বছরের সর্বনিম্নে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ

ইউরোপের মজুদাগারগুলোয় বর্তমানে ৩৭০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস রয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে শীতকালীন চাহিদা মেটাতে এ মজুদ অন্তত ২ হাজার বিসিএফে উন্নীত করা প্রয়োজন। রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, এ লক্ষ্য অর্জনে ইউরোপকে আগামী ২৩৫ দিন গড়ে দৈনিক ৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ করতে হবে

২০২৬ সালের শুরুতে ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ তা ফিকে হয়ে আসে। মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে মহাদেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা। বর্তমানে ইউরোপের গ্যাস মজুদ সক্ষমতার মাত্র ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন। খবর রয়টার্স।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা শুরু হয়। এ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইউরোপের ওপর। ২০২৫ সালে কাতার ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক দেশ। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ইউরোপের মজুদ পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অঞ্চলটির জন্য আগামী শীতের আগে মজুদ পূর্ণ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এলএসইজি ও কেপলারের তথ্যানুযায়ী, ইউরোপের মজুদাগারগুলোয় বর্তমানে ৩৭০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস রয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে শীতকালীন চাহিদা মেটাতে এ মজুদ অন্তত ২ হাজার বিসিএফে উন্নীত করা প্রয়োজন। রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, এ লক্ষ্য অর্জনে ইউরোপকে আগামী ২৩৫ দিন গড়ে দৈনিক ৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ করতে হবে। এ বিশাল পরিমাণ গ্যাস মজুদ করা প্রতিদিন দুটি বড় এলএনজি ট্যাংকার খালাস করার সমান।

এদিকে, চড়া দাম ও সরবরাহ সংকটের কারণে ইউরোপের শিল্প খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সার কারখানা, রাসায়নিক প্লান্ট ও ইস্পাত কারখানাগুলো গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে জার্মানির অটোমোবাইল শিল্পে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে। ফক্সওয়াগনের মতো বড় প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় ইউরোপের নীতিনির্ধারকরা গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ ও বায়োমিথেনের দিকে ঝোঁকার চেষ্টা করছেন। তবে এ রূপান্তর দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হওয়ায় নিকট ভবিষ্যতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও