জুলাইয়ের পর প্রথমবার স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে

লেনদেনের একপর্যায়ে গত শুক্রবার প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম কমে ৩ হাজার ৯৮৬ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে আসে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমে ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমেছে। জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো এমন বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারের ব্যাপক দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য খাতের লোকসান সামলাতে স্বর্ণ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে বিশ্ববাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এ মূল্যবান ধাতুটির দরপতন ঘটেছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও আনাদোলু এজেন্সি।

লেনদেনের একপর্যায়ে গত শুক্রবার প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম কমে ৩ হাজার ৯৮৬ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে আসে। তবে দিনশেষে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণ ৩ হাজার ৯৯৮ ডলারে স্থির হয়, যা আগের দিনের চেয়ে দশমিক ৫ শতাংশ কম। পুরো সপ্তাহজুড়ে ধাতুটির দাম কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে রুপার দামও দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৪ ডলার ২০ সেন্টে লেনদেন হয়।

সাধারণত শেয়ারবাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে বা বন্ডের সুদহার কমলে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। তবে এবার চিত্র দেখা গেছে ভিন্ন। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করলেও বিশ্ববাজারে স্বর্ণ বিক্রি করে অর্থ তুলে নিয়েছেন। আর্থিক বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান বেরেনবার্গ জানিয়েছে, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর মার্কিন বন্ডের সুদহার কমে যাওয়ার পরও স্বর্ণের দরপতনের এমন ঘটনা আর দেখা যায়নি।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ারে সাম্প্রতিক বড় ধরনের দরপতনই স্বর্ণের দাম কমার মূল কারণ।

প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মেটা প্লাটফর্মস মূলধনি ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এতে এআই খাতের দীর্ঘমেয়াদি মুনাফার পাশাপাশি বিনিয়োগের খরচ ও অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। ফলে প্রযুক্তি ও এআইসংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে দরপতন হয়। লোকসান সামাল দিতেই কিছু বিনিয়োগকারী স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতু বিক্রি করে দেন।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার দীর্ঘদিন চড়া রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুদহার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সুদমুক্ত সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সিএমই গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ এরিক নরল্যান্ড জানান, সুদহার কমানোর পরিবর্তে বৃদ্ধির আশঙ্কাই এ বছর স্বর্ণের বাজারের মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বর্ণের দামে এ পতনের প্রভাব পড়েছে স্বর্ণ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও। বিশ্বখ্যাত খনি প্রতিষ্ঠান বিএইচপি ও রিও টিনটোর শেয়ারের দাম গত সপ্তাহে কমেছে ৮ শতাংশের বেশি। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে অবস্থান করলে স্বর্ণভিত্তিক তহবিল (ইটিএফ) থেকে বিনিয়োগ তুলে নেয়ার প্রবণতা আরো বাড়তে পারে।

তবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের গড় দাম গত বছরের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনা এবং মার্কিন বাজেট ঘাটতির কারণে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের চাহিদা এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

আরও