ব্রাজিলের সয়াবিন উৎপাদন ২০২৫-২৬ মৌসুমে নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে। বর্তমান ফলন বাড়ার প্রবণতা বজায় থাকলে দেশটির মোট উৎপাদন ১৭ কোটি ৭০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। রাবোব্যাংকের গবেষণা শাখা রাবোরিসার্চ প্রকাশিত ‘ব্রাজিল এগ্রিবিজনেস আউটলুক ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ কৃষি মৌসুমে ব্রাজিলে সয়াবিনের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ২ শতাংশ বাড়তে পারে। যদিও এ প্রবৃদ্ধি গত ১৫ বছরের গড় বার্ষিক ৪ শতাংশ সম্প্রসারণের তুলনায় কম। তবে চলমান উচ্চ সুদের হার ও কৃষকদের ওপর নগদ প্রবাহের চাপের মধ্যেও এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অনেক কৃষক এখনো উচ্চ ঋণের বোঝায় থাকলেও আবাদ সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করছে রাবোরিসার্চের বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রোপণ পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি গত পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে ভালো রয়েছে।
২০২৫ সালে ব্রাজিলের সয়াবিন রফতানির পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ১০ লাখ টন। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তি সত্ত্বেও ব্রাজিলীয় সয়াবিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃতের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাবোরিসার্চ আরো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চুক্তির আওতায় যে পরিমাণ সয়াবিন কেনাবেচা হবে, তা প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে। সেক্ষেত্রে আবারো ব্রাজিলের রফতানি সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসবে।
ব্রাজিলে ২০২৫-২৬ কৃষি মৌসুমে সয়াবিন প্রক্রিয়াকরণ প্রায় ২০ লাখ টন বেড়ে ছয় কোটি টনে পৌঁছতে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘ফুয়েল অব দ্য ফিউচার’ আইনের আওতায় মোট জ্বালানিতে বায়োডিজেলের বাধ্যতামূলক হিস্যা ১৬ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা।
তবে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে এ বিধান বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় প্রক্রিয়াকরণ বৃদ্ধির গতি কিছুটা সীমিত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে গবেষণা সংস্থাটি।