পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কনফিডেন্স সিমেন্ট পিএলসি তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ব্যাটারিজ লিমিটেডে থাকা সব শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে থাকা ১ কোটি ৩ লাখ ১৪ হাজার ৫০০টি শেয়ার কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার পিএলসির কাছে বিক্রি করা হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। কোম্পানিটির কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং আর্থিক দায় মেটানোর উদ্দেশ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কনফিডেন্স ব্যাটারিজের প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। এসব শেয়ারের মোট বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। কনফিডেন্স সিমেন্ট ও কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মধ্যে সম্পাদিত শেয়ার ক্রয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এ লেনদেন সম্পন্ন হবে। তবে শেয়ার বিক্রি ও হস্তান্তরের জন্য কোম্পানির সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে হবে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ২০২৫-২৬ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ২০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১১ টাকা ২৩ পয়সায়। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯৬ টাকা ৮৯ পয়সায়।
২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কনফিডেন্স সিমেন্টের ইপিএস হয়েছে ১১ টাকা ২৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ টাকা ৭৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৮৮ টাকা ৬৮ পয়সায়।
২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কনফিডেন্স সিমেন্টের ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৭৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ১৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৪ টাকা ৭৫ পয়সায়।
২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কনফিডেন্স সিমেন্টের ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৩১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৩৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৯ টাকা ৮৯ পয়সায়।
২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ।
আলোচ্য হিসাব বছরে কনফিডেন্স সিমেন্টের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৫ টাকা ৮৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭২ টাকা ২৪ পয়সায়।
কনফিডেন্স সিমেন্ট পিএলসির ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ থ্রি’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএবি)।
১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কনফিডেন্স সিমেন্টের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৮৬ কোটি ২৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫৮১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৮ কোটি ৬২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯০। এর ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৮ দশমিক ৩৮, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ১৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩১ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।