এ সুযোগে বিশ্ববাজারে নিজেদের জ্বালানি তেল রফতানি রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি প্রতিদিন গড়ে ৫৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। এশিয়া ও ইউরোপের শোধনাগারগুলোয় মার্কিন জ্বালানি তেলের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হওয়ায় নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে বলে চলতি সপ্তাহের জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যে জানা গেছে। খবর রয়টার্স।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে আসে। বিশ্বের জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মোট সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই পরিবাহিত হয় ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল শোধনাগারগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বিকল্প উৎস খুঁজতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
জ্বালানি তথ্য ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে মার্কিন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি তার আগের মাসের ৫২ লাখ ব্যারেলের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। মূলত বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম অনেক কম থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে মার্কিন তেল কেনা লাভজনক হয়ে উঠেছে। গত মার্চে ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ডব্লিউটিআইর দাম ব্যারেলে প্রায় ২০ ডলার ৬৯ সেন্ট পর্যন্ত কমে যায়, যা ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধান।