সিঙ্গাপুরে তৈরি হচ্ছে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে সমুদ্র-তীরবর্তী স্থানে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করছে সিঙ্গাপুর। মূলত দেশটিতে স্থান সংকুলানের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর এএফপি।

গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে সমুদ্র-তীরবর্তী স্থানে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করছে সিঙ্গাপুর। মূলত দেশটিতে স্থান সংকুলানের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর এএফপি।

যদিও বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি সিঙ্গাপুর। কিন্তু অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কারণে এশিয়ায় মাথাপিছু কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণে এটি উচ্চস্থানে অবস্থান করছে। সরকার এটি পরিবর্তন করার উদ্যোগ নিলেও দেশটিতে নদী না থাকার কারণে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি বাতাসের গতি কম থাকায় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সুযোগও অনুপস্থিত। ফলে পর্যাপ্ত স্থান সংকুলানের অভাবে সমুদ্রতীরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করে তারা।

প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী স্যাম্বকর্প ইন্ডাস্ট্রির দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রধান কোম্পানির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জেন তান বলেন, বাসাবাড়ির ছাদ ব্যবহারের পর পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় সমুদ্রসীমা প্রকল্পের জন্য সম্ভাবনাময় জায়গা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রসীমা বৃদ্ধিতে দ্বীপ দেশটি হুমকিতে রয়েছে। ফলে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সিঙ্গাপুরে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়েছে। যদিও অনেকে বলছেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

গত মাসে সবুজ পরিকল্পনা উদ্যোগ হিসেবে সরকার বেশি পরিমাণে গাছ রোপণসহ বৈদ্যুতিক কার ব্যবহারে উৎসাহী করে তুলতে বেশকিছু চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য নিঃসরণ কমাতেও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি স্থাপিত হয়েছে সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়ার বিভক্তকারী জোহর স্ট্রেইটে। ১৩ হাজার প্যানেলের কেন্দ্রটি পাঁচ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যা পুরো বছর হাজার ৪০০ ফ্ল্যাটে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য যথেষ্ট।

তেঙ্গে জল অঞ্চলে নির্মাণাধীন আরো বড় একটি প্রকল্প, যা বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হতে পারে। লাখ ২২ হাজার প্যানেলের প্রকল্পটি দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বড় সৌর প্রকল্প হয়ে উঠবে, যা ৪৫টি ফুটবল পিচের সমান।

আরও