এনবিআরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় শিল্প মালিকরা

পোশাক শিল্পে করছাড় ও প্রণোদনা দাবি

দেশের তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান সংকট মোকাবেলা এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎসে কর হ্রাস ও নগদ সহায়তার ওপর কর অব্যাহতির দাবি জানিয়েছে দেশের পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠনগুলো।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে গতকাল এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে রফতানি খাতে দেয়া প্রণোদনার ওপর কর আরোপের বিরোধিতা করে কর কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) নগদ সহায়তার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি রফতানি আয়ের ওপর উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা পাঁচ বছর কার্যকর রাখার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানা আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আগামী বাজেটে নীতিসহায়তা জরুরি।’

সভায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) রফতানি আয়ের ওপর উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং রফতানি ভর্তুকির ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। এ সময় সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘প্রণোদনার ওপর কর আরোপ শিল্পের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেয়। রফতানি আয়ের ওপর কর বহাল থাকায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।’

এর জবাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আমরা এবার করপোরেট রিটার্নও অনলাইন করেছি। অনলাইনে এগুলো সব অ্যালাউড।’

সভায় বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) আগামী পাঁচ বছরের জন্য রফতানির বিপরীতে উৎসে কর দশমিক ৫ শতাংশে স্থির রাখার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি নগদ সহায়তার ওপর বর্তমান ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার এবং নির্দিষ্ট কিছু আয়ের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ একক করহার নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।

এদিকে কর আহরণ বাড়ানো ও ভ্যাট ফাঁকি রোধে ডিজিটাল নজরদারি জোরদারকরণের পরিকল্পনা নিয়েছে এনবিআর। এ প্রসঙ্গে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘খুচরা বাজারে প্যাকেটজাত পণ্যে পর্যায়ক্রমে কিউআর কোড চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে তামাকজাত পণ্যে এ ব্যবস্থা চালু করে; পরে সাবান, শ্যাম্পু, বোতলজাত পানি ও পানীয়সহ অন্যান্য পণ্যে তা সম্প্রসারণ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে ভোক্তারা যাচাই করতে পারবেন কোনো পণ্য কর পরিশোধ করে বাজারে এসেছে কিনা। এতে ভ্যাট ফাঁকি কমবে এবং নজরদারি জোরদার হবে।’

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ই-টিআইএন ও ই-রিটার্ন ডেটাবেজ ব্যবহার করে রিটার্ন না দেয়া করদাতাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করা হবে। এরপর তাদের নোটিস পাঠানো এবং প্রয়োজন হলে অডিটের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘অডিট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ম্যানুয়াল নির্বাচন পদ্ধতি বন্ধ করে রিস্কভিত্তিক অটোমেটেড অডিট চালু করা হয়েছে। এতে প্রথম ধাপে প্রায় ১৫ হাজার এবং দ্বিতীয় ধাপে ৬০ হাজারের বেশি করদাতাকে এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

এনবিআর চেয়ারম্যান আরো জানান, কর ফাঁকি প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কিউআর কোড স্ক্যান করে কেউ অনিয়মের তথ্য দিলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় আরো অংশ নেয় বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিটিএলএমইএ) প্রতিনিধিরা।

আরও