আমদানি বাড়ায় দাম কমছে জিরার ঊর্ধ্বমুখী এলাচ

দেশের বাজারে আমদানি বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে জিরার। গত এক মাসে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে পণ্যটির দাম কমেছে কেজিতে ৫০-৭০ টাকা। অন্যদিকে দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর এলাচের দাম বেড়েছে।

এক মাসের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে এলাচের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জিরার আমদানি ও সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। বিপরীতে বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি ও আমদানি কমে যাওয়ায় এলাচের দাম বেড়েছে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বর্তমানে ভারতীয় এলএনজি ব্র্যান্ডের এলাচ প্রতি কেজি ৪ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও এগুলোর দাম ছিল ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা। এছাড়া গুয়াতেমালা থেকে আমদানি করা এলাচ প্রতি কেজি ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজেটের পর আমদানির গতি কমে যাওয়ায় এলাচের সরবরাহ কমেছে। এতে বাজারে দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরার মসলা বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে জিরার দাম। জুলাইয়ে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা জিরা পাইকারিতে প্রতি কেজি ৫৮০-৫৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগস্টের শুরুতে দাম কমে ৫২০ টাকায় নামে। বর্তমানে সরবরাহ আরো বাড়ায় দাম কেজিতে ৫০০ টাকার নিচে নেমে আসে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের বাজারে জিরার দাম কমে যাওয়ার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। দুই বছর আগেও দেশে জিরার পাইকারি দাম কেজিতে ১ হাজার টাকার ওপরে ছিল। একপর্যায়ে মানভেদে দাম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। এখন ধারাবাহিকভাবে দাম কমতে শুরু করেছে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ভারতীয় জিরা প্রতি কেজি ৪৬০-৪৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে তুরস্ক ও আফগানিস্তানের জিরা তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ৫৮০-৬০০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স নাজিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক মো. কাউসার আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জিরার সরবরাহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। আমদানি পর্যায়ে দাম কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বাজারগুলোয় দরপতনে দেশের প্রধান পাইকারি বাজারগুলোতেও পণ্যটির দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসেছে। তবে দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর বর্তমানে বাজারে এলাচের দাম বেড়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন সংকটসহ নানা কারণে আমদানি কিছুটা কমে যাওয়ায় পণ্যটির দাম বাড়তে শুরু করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাজারে এলাচের পাশাপাশি দাম বেড়েছে লবঙ্গেরও। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি লবঙ্গের দাম ছিল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ২৬০ টাকা। এখন তা বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা হয়েছে। গোলমরিচের দাম কেজিতে ৯৮০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে স্থির রয়েছে। তবে দারুচিনির দাম বেড়েছে। বর্তমানে চীনা দারুচিনি ৩৫০ এবং ভিয়েতনামি দারুচিনি ৪২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বাজারে রমজান, কোরবানির ঈদ ও শীতের মৌসুমে গরম মসলার চাহিদা বাড়ে। তখন পাল্লা দিয়ে দামও বাড়ে। তবে বর্ষা মৌসুম ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মসলার চাহিদা কম ছিল। এখন বর্ষা শেষের দিকে হওয়ায় কিছু মসলার চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে যেসব পণ্যের দাম কমেছে, সেগুলোর প্রভাবও দেশের বাজারে পড়ছে। ফলে জিরার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দাম আরো কমতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

আরও