আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা কমেছে। মোট আয় বাড়া সত্ত্বেও ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে কোম্পানিটির মুনাফা কিছুটা কমেছে, কিন্তু পরিচালন নগদ প্রবাহে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে।
চলতি হিসাব বছরের ৩১ মার্চ ২০২৬ সমাপ্ত সময়ে কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি গতকাল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ৫১তম সভায় পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।
২০২৫-২৬ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে নগদ প্রবাহে বড় উন্নতি কোম্পানিটির জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচ্য সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৩২ পয়সায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ১ টাকা ৬৭ পয়সা ঋণাত্মক ছিল। গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি তারল্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ফলে পরিচালন নগদ প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে।
চলতি হিসাব বছরের ৩১ মার্চ ২০২৬ সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ওয়ালটনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ২৯ পয়সায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২০ টাকা ৯০ পয়সা।
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, আলোচ্য সময়ে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ নগদ সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। যদিও ভ্যাট হার বৃদ্ধি ও অন্যান্য উৎস থেকে করযোগ্য আয় বাড়ার কারণে সরকারি কোষাগারে আয়কর ও ভ্যাট বাবদ পরিশোধ বেড়েছে, তথাপি কার্যকর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ব্যবস্থাপনার কারণে তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী হয়েছে।
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট দ্বিগুণ করায় অর্থাৎ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করায় কোম্পানির বিক্রয় ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ভ্যাট দ্বিগুণ করা সত্ত্বেও গ্রাহকের ব্যয় সক্ষমতার বিবেচনায় পণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের ৩১ মার্চ ২০২৬ সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ওয়ালটনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ২৯ পয়সায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২০ টাকা ৯০ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানির পুনর্মূল্যায়ন ব্যতীত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে ২৬৫ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে এবং পুনর্মূল্যায়নসহ যা ৩৬৬ টাকা ৮০ পয়সা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানির রিবেট কাঠামো পুনর্গঠন, পরিবেশকদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা চালুসহ বাণিজ্যিক নীতিতে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ফলে বিনিময় হার, মূল্যস্ফীতি ও বাজারে চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা ও কৌশলগত উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী প্রান্তিকেও মুনাফা ও অন্যান্য আর্থিক সূচকে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদী কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।