ভোমরা স্থলবন্দর

আমদানি বাড়লেও শুকনো মরিচের দর বৃদ্ধি, দাম কমেছে জিরা

সাতক্ষীরার স্থানীয় বাজারে শুকনো মরিচের দাম বাড়লেও কমেছে জিরার।

ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে এ দুই মসলাজাতীয় পণ্যের আমদানি বাড়লেও বাজারে দামের বৈপরীত্য দেখে গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শুকনো মরিচের দাম ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে এক মাসের ব্যবধানে জিরার দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

ভোমরা কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখার তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে এ বন্দর দিয়ে ৫৪ হাজার ৯৩৪ টন শুকনো মরিচ আমদানি হয়েছে। যার মূল্য ১ হাজার ৫১২ কোটি ২১ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে শুকনো মরিচ আমদানি হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬৮১ টন। এর মূল্য ছিল ১ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে মাসে শুকনো মরিচের আমদানি বেড়েছে ২৫৩ টন।

আমদানি বাড়লেও দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ভোমরা বন্দরের মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, সম্প্রতি ভারতের বাজারে শুকনো মরিচের দাম অনেক চড়া। এ কারণে বেশি আমদানি করলেও দেশের বাজারে দাম কমানো যাচ্ছে না।

গতকাল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সুলতানপুর বড় বাজারে সরজমিনে দেখা যায়, প্রতি কেজি শুকনো মরিচ ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৪২০-৪৩০ টাকা। বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়েছে।

বিপরীত চিত্র দেখা গেছে জিরার বাজারে। কাস্টমসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ৩ হাজার ৩৯৮ টন জিরা আমদানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ২ হাজার ৯৬৯ টন। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে এবার জিরা আমদানি বেড়েছে ৪২৯ টন।

বন্দ‌রের অন‌্যতম মসলাপণ্য আমদা‌নিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বা‌ধিকারী মো. আবু হাসান ব‌লেন, ‘দে‌শের বাজা‌রে চা‌হিদা বাড়ায় সম্প্রতি জিরা আমদা‌নি কিছুটা বে‌ড়ে‌ছে।’

আমদানি বাড়ায় খুচরা বাজারে জিরার দাম কমে এসেছে। সুলতানপুর বড় বাজারে গতকাল ভারতীয় জিরা প্রতি কেজি ৫৭০-৫৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এক মাস আগে ছিল ৬২০ টাকা। এছাড়া সিরিয়া ও তুরস্কের জিরা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮০-৭০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭২০-৭৫০ টাকা।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আবদুল্লাহ জানান, কোরবানি ঈদের পর জিরাসহ অন্য মসলার দাম কমতে শুরু করেছে। তবে আমদানি বাড়ার পরও শুকনো মরিচের দাম কেন বাড়ছে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও