লক্ষ্মীপুরে এক বছরের ব্যবধানে সয়াবিন উৎপাদন বেড়েছে ১১ হাজার টন। আবাদ বেড়েছে ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। সয়াবিনচাষীরা বলছেন, কয়েক বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উৎপাদন। এতে সয়াবিন চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন অনেক চাষী। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে অনুকূল আবহাওয়ায় সয়াবিনের ভালো ফলন হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের লোকসান পুষিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
কৃষি বিভাগ বলছে, উচ্চফলনশীল নতুন জাতের বিইউ-১, বিইউ-২, বারি-৫ ও ৬, বিনা-৫ ও ৬ জাতের সয়াবিন চাষ করায় এবার উৎপাদন বেড়েছে। এতে ৬০০ কোটি টাকারও বেশি সয়াবিনের বাণিজ্য করেছেন ব্যবসায়ীরা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সয়াবিন উৎপাদন আরো বাড়বে। সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে ৪১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ৮৩ হাজার ২০০ টন সয়াবিন উৎপাদন হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে জেলায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়। উৎপাদন হয় ৭২ হাজার ২০০ টন। এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন বেড়েছে ১১ হাজার টন। এসব সয়াবিন কেজিপ্রতি ৫৫-৫৬ টাকা এবং মণপ্রতি ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অনেক কৃষক তাদের উৎপাদিত সয়াবিন খেতেই বিক্রি করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ও অশনিসহ বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে উপকূলীয় এ জেলায় অতি বৃষ্টিপাত হয়। কয়েক বছর জলাবদ্ধতায় খেতেই সয়াবিন গাছ পচে নষ্ট হয়েছে। দফায় দফায় লোকসান গুনতে হয়েছে চাষীদের। বাধ্য হয়ে অনেকেই সয়াবিন আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সয়াবিনের উৎপাদন বাড়ায় আবারো সয়াবিন আবাদে ঝুঁকছেন চাষীরা।
সয়াবিনচাষীরা জানান, চলতি বছর নতুন জাতের সয়াবিন আবাদে আশার আলো দেখছেন তারা। কমলনগরের সয়াবিনচাষী নুর হোসেনসহ তিন কৃষক বলেন, ‘কয়েক বছর সোহাগ জাতের সয়াবিন চাষ করেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। চলতি বছর কৃষি বিভাগের পরামর্শে উচ্চফলনশীল বিইউ ও বিনা জাতের সয়াবিন চাষ করে বাম্পার ফলন হয়েছে। এরই মধ্যে আবার আবাদের জন্য জমি তৈরি করছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জাকির হোসেন জানান, বছরে একই মৌসুমে দুবার সয়াবিন উৎপাদন করেন চাষীরা। রবি মৌসুমের শুরুতে বীজ উৎপাদনের জন্য সয়াবিন চাষ হয়। মধ্যভাগে উৎপাদিত সয়াবিন বীজসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যবহার হয়। কৃষকরা একসময় সোহাগ জাতের সয়াবিন বীজের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে নতুন জাতের বিইউ-১, বিইউ-২, বারি-৫ ও ৬, বিনা-৫ ও ৬ জাতের সয়াবিন চাষ করায় উৎপাদন বেড়েছে দু-তিন গুণ। এতে বৈরী আবহাওয়া তেমন প্রভাব ফেলবে না।
তিনি আরো জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সব কৃষককে নিয়ে কাজ করে। জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ড. খালেদ কমলনগর উপজেলায় কিছু নতুন জাতের সয়াবিন ট্রায়েল ফলক বসিয়েছেন। ট্রায়েল ফলকটি পানিসহিষ্ণুতায় সফল হলে জাতটি আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।