দুবাইভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ওয়ান ইনভেস্টমেন্টসের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্বের শীর্ষ নয়টি উড়োজাহাজ সংস্থা সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ২ হাজার ৫১১ কোটি ডলার (প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি ইউরো) নিট মুনাফা অর্জন করেছে। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো মুনাফার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা এমিরেটস। এর পরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন উড়োজাহাজ সংস্থা। খবর ইউরো নিউজ।
তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি মূলত ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগের চিত্র। বর্তমানে চলমান এ যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। এতে করে বিশ্ব উড়োজাহাজ খাতের এ স্বর্ণালি সময় দ্রুতই ম্লান হয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ৫৪০ কোটি ডলার নিট মুনাফা করে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে এমিরেটস। তবে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যায়, যা সংস্থাটির পরিচালন কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর মধ্যে ৫০০ কোটি ডলার মুনাফা নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে ডেল্টা এয়ারলাইনস। ৩৪০ কোটি ডলার আয় করে এর পরেই রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস। অন্যদিকে ইউরোপের সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ সংস্থা রায়ানএয়ার ২২৬ কোটি ইউরো ও টার্কিশ এয়ারলাইনস প্রায় ২৪০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে।
এছাড়া এশিয়ার সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ২১০ কোটি এবং কাতার এয়ারওয়েজ ১৯৪ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। তবে কাতার এয়ারওয়েজের মুনাফা আগের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। এর বাইরে ক্যাথে প্যাসিফিক ১২৭ কোটি এবং জাপানের এএনএ ১১০ কোটি ডলার নিট মুনাফা অর্জন করেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে উড়োজাহাজ চলাচলের গতিপথ পরিবর্তন করতে হচ্ছে এবং জ্বালানির খরচ ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। ২০২৫ সালে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর মোট খরচের ২৫ শতাংশের বেশি ছিল জ্বালানি ব্যয়। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১৫০ ডলার ছাড়িয়েছিল।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) সতর্ক করে জানিয়েছে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ বছর বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর মুনাফা গত বছরের তুলনায় অর্ধেক কমে যেতে পারে। ফলে আগামী বছরগুলোয় এভিয়েশন খাতের আয়ের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।