অর্থপাচার ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড শনাক্তে ব্যর্থতার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ১২০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়েছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার এ জরিমানার ঘোষণা দেয়। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ৫০০ কোটি ডলারের বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য সরকারকে জানাতে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের লেনদেনে জাতীয় নিরাপত্তা ও অবৈধ অর্থায়নসংক্রান্ত ঝুঁকি ছিল। খবর বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ এ ব্যাংক সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি। এসব লেনদেনের মধ্যে চীনের অর্থপাচারকারী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তকেন্দ্রিক বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচারের ঘটনাও ছিল বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।
সরকারি সংস্থাটির ইতিহাসে এটি তৃতীয় বৃহত্তম জরিমানা। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘এত বড় একটি ব্যাংক অর্থপাচার প্রতিরোধ ও নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে পুরো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা অবৈধ অর্থায়নের ঝুঁকিতে পড়ে।’
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে ব্যাংকটি নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থার ওপর যথেষ্ট নির্ভর করেনি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর বেশি নির্ভর করেছে। ফলে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও কর্তৃপক্ষকে জানানোর দায়িত্বের বড় একটি অংশ কার্যত তৃতীয় পক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল ব্যাংকটি।
এদিকে অবৈধ অর্থ লেনদেন ও অর্থপাচার বন্ধে ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী থাকা দরকার ছিল বলে স্বীকার করেছে ব্যাংকটি। পাশাপাশি বিদেশী কোনো ব্যাংক বা গ্রাহকের জন্য নতুন হিসাব চালুর সময় নিয়ম মেনে খোঁজখবর ও তথ্য যাচাইয়ে ঘাটতির কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
জরিমানার অর্থের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (ওসিসি) আরোপ করেছে ৭৫ কোটি ডলার। সংস্থাটির ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ জরিমানা।