চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েকগুন

এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি টার্মিনাল অভিমুখে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরির চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। কর্মবিরতির কারণে গত কয়েকদিন বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা শত শত যানবাহন দুপুর থেকে জেটির ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে

​দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর আজ শুক্রবার চাপ বেড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে। টানা স্থবিরতা কাটিয়ে দুপুর ১২টার পর থেকে বন্দরের জেটিতে প্রবেশের অপেক্ষায় পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পুরোদমে শুরু হয়েছে কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা ও খালাস প্রক্রিয়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি টার্মিনাল অভিমুখে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরির চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। কর্মবিরতির কারণে গত কয়েকদিন বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা শত শত যানবাহন দুপুর থেকে জেটির ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বন্দর ফটকগুলোয় দায়িত্বরত ট্রাফিক কর্মকর্তাদের যানবাহনের এ দীর্ঘ জট সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা যায়।

​বার্থ অপারেটর সূত্রে জানা গেছে, জেটিতে অবস্থানরত কনটেইনার জাহাজগুলো থেকে ক্রেনের মাধ্যমে কনটেইনার খালাস কার্যক্রম দ্রুতগতিতে চলছে। দীর্ঘ বিরতির পর শ্রমিকরা কাজে ফেরায় অপারেশনাল চাপ তৈরী হয়েছে।

​সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে আন্দোলনে নামে শ্রমিক-কর্মচারীরা। এ আন্দোলনের জেরে ১৫ জন কর্মচারীকে শাস্তিমূলকভাবে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ​তবে জনস্বার্থ ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে এ কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছে 'চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ'।

পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে, তবে দুই দিনের সময় দিয়ে বর্তমানে বন্দরের কার্যক্রমে সচল রাখা হয়েছে।

এদিকে, কর্মবিরতির ফলে যে রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মবিরতি কর্মসূচি সাময়িক প্রত্যাহার হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। তবে ইজারা বাতিল ও শ্রমিকদের বদলি প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় অনিশ্চয়তা কাটেনি।

আরও