ব্যাংক বা ইউনিটগুলোর পণ্য, বিনিয়োগের ধরন, চুক্তি ও দলিলাদি যাচাই এবং মুনাফা বণ্টন পদ্ধতি শরিয়াহভিত্তিক হচ্ছে কিনা—এসব বিষয় নিরীক্ষা করে সরাসরি পর্ষদের অডিট কমিটি অথবা শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গতকাল জারীকৃত অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পদ্ধতি (আইসিএমএস) নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নতুন নীতিমালা অনুযায়ী চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুনর্গঠন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংক, শাখা এবং উইন্ডোগুলোর জন্য একটি স্বতন্ত্র ও নিবেদিত ‘শরিয়াহ অডিট’ বিভাগ রাখতে হবে। শরিয়াহ লঙ্ঘনের ফলে উদ্ভূত আইনি, আর্থিক এবং সুনামহানির ঝুঁকি মোকাবেলা করাই হবে এ বিভাগের প্রধান লক্ষ্য। এ অডিট প্রক্রিয়াটি শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি এবং পর্ষদ অডিট কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
ঝুঁকিভিত্তিক অডিট ও নজরদারি নিশ্চিতে ব্যাংকগুলোকে একটি ‘রিস্ক-বেসড শরিয়াহ অডিট প্ল্যান’ তৈরি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শরিয়াহ লঙ্ঘনের মাত্রা অনুযায়ী শাখাগুলোকে ‘উচ্চ ঝুঁকি’ থেকে ‘নিম্ন ঝুঁকি’ শ্রেণীতে ভাগ করা হবে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শাখাগুলোয় বছরে অন্তত দুইবার শরিয়াহ অডিট পরিচালনা করতে হবে।
অডিট কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরিদর্শন শেষ হওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে শরিয়াহ অডিট প্রধানের কাছে খসড়া প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এছাড়া প্রতি ত্রৈমাসিক প্রান্তিক শেষ হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন এবং অর্থবছর শেষ হওয়ার ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত বার্ষিক প্রতিবেদন শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি, পর্ষদ অডিট কমিটি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পেশ করতে হবে।
শরিয়াহ-বহির্ভূত কোনো লেনদেন থেকে অর্জিত মুনাফা ব্যাংক তাদের নিয়মিত আয় হিসেবে দেখাতে পারবে না। শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী এমন অবৈধ আয় ব্যাংকের সিএসআর তহবিলে বা দাতব্য কাজে স্থানান্তর করতে হবে। এছাড়া শরিয়াহ পরিপালনে গুরুতর অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ইউনিটের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ব্যাংকগুলোকে ‘রিস্ক-বেসড সুপারভিশন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং আধুনিক মনিটরিং সফটওয়্যার ব্যবহারের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে নতুন সার্কুলারে। এর মাধ্যমে মানি লন্ডারিং রোধ এবং ট্রেজারি কার্যক্রমগুলোতে রিয়েল-টাইম তদারকি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।