সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে এ তথ্য জানান জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক প্রধান রোজমেরি ডিকার্লো। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘২০৪০ সালের মধ্যে এ চাহিদা চার গুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ খবর এপি।
ডিকার্লোর মতে, মাত্র এক দশক আগেও লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের মতো খনিজগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব ছিল সীমিত। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল অর্থনীতি এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে এ সম্পদগুলো। এ খনিজগুলো ছাড়া বর্তমানের আধুনিক প্রযুক্তি কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক এ বিশেষ বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৩ সালে এসব খনিজের বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি বর্তমান বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ১০ শতাংশেরও বেশি। মূলত ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং গ্রিন এনার্জি বা সবুজ জ্বালানি খাতের দ্রুত প্রসারের কারণেই এ বিপুল চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। তিনি বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর খনিজ সম্পদের জন্য অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ খনিজ সম্পদের সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ এবং দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখা বর্তমানে বিশ্ব শান্তির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে চীন এ দুষ্প্রাপ্য খনিজ সম্পদের বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। অতীতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বে চীন এ খনিজ রফতানির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে একটি বিকল্প খনিজ বাণিজ্য ব্লক তৈরির পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে চীনের প্রতিনিধি ফু কং সব দেশের প্রতি পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন মাইনিং’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।