যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী ফলের প্রভাব

এআই খাতে উদ্বেগ, নাসডাক থেকে উধাও আড়াই লাখ কোটি ডলার

বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে বাধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ডাটা সেন্টার নির্মাণে বাড়তে পারে রাজনৈতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের বাধা। এতে অর্থায়নের সংকটে থাকা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো আরো চাপে পড়তে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাবে প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজার নাসডাকে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। এক দিনেই সূচকটির বাজারমূল্য থেকে মুছে গেছে ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন বা আড়াই লাখ কোটি ডলার। গতকাল নাসডাকের পতন হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘লিবারেশন ডে’ ট্যারিফ ঘোষণার পর এক দিনে সর্বোচ্চ পতন। খবর রয়টার্স।

বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে বাধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ডাটা সেন্টার নির্মাণে বাড়তে পারে রাজনৈতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের বাধা। এতে অর্থায়নের সংকটে থাকা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো আরো চাপে পড়তে পারে।

এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এআই খাতের শেয়ার বিক্রির চাপ দেখা গেল। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নাসডাক কম্পোজিট সূচকে ৫০০ পয়েন্টের বেশি পতন হয়েছে পাঁচবার। গত ৬ অক্টোবরের রেকর্ড অবস্থান থেকে সূচকটি প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। ফলে এটি এখন সংশোধন বা কারেকশন পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ১০ শতাংশ পতন হলে তাকে কারেকশন বলা হয়।

জোনসট্রেডিংয়ের প্রধান বাজার কৌশলবিদ মাইকেল ও'রুর্ক বলেন, নির্বাচনের ফলাফলে বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের গভর্নর পদে বড় জয় ডাটা সেন্টার নির্মাণের গতি কমিয়ে দেয়ার বিষয়টিকে সামনে এনেছে।

গতকাল সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে চিপ নির্মাতা ও এআই অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে। ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক ১২ শতাংশ কমে ছয় মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। এনভিডিয়ার শেয়ারদর সংকুচিত হয়েছে ৯ শতাংশ এবং অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের (এএমডি) ১৭ শতাংশ। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অ্যামাজন ও অ্যালফাবেটের শেয়ার কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ করে। নাসডাক-১০০ সূচক কমেছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা মাপার সূচক ভিআইএক্স ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতাও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এসব স্থাপনার কারণে বিদ্যুৎ ও পানির ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিরোধিতা বাড়তে পারে। ইউবিএসের বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টারের যে সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার কথা, তার প্রায় ৩০ শতাংশ নির্মাণকাজ স্থগিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এআই খাতের অর্থায়ন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। নিওক্লাউড প্রতিষ্ঠান কোরউইভের শেয়ার কমেছে ১০ শতাংশ, নেবিয়াসের ১৫ শতাংশ। গত ৬ অক্টোবর নাসডাকের রেকর্ড অবস্থানের পর প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ারদর অর্ধেক বা তারও বেশি কমেছে। কোরউইভের পাঁচ বছর মেয়াদি ক্রেডিট ডিফল্ট সোয়াপের (সিডিএস) স্প্রেড বেড়ে রেকর্ড ১ হাজার ২৬৭ দশমিক ৯ বেসিস পয়েন্টে পৌঁছেছে। ইন্টেলের ক্ষেত্রেও এই স্প্রেড রেকর্ড ১৪৯ দশমিক ৭ বেসিস পয়েন্টে উঠেছে।

ইনক্লাইন ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা টেড পার্কহিল বলেন, বাজার এখন এআইয়ের সম্ভাবনার চেয়ে এর পেছনে ব্যয়ের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে এআই বিশ্বকে বদলে দেবে, তবে এআই-সংশ্লিষ্ট সব শেয়ারের বর্তমান মূল্য যে যৌক্তিক, তা নয়।

এছাড়া ডাটা সেন্টার পরিচালনাকারী অ্যাপ্লায়েড ডিজিটাল, সাইফার ডিজিটাল ও আইরেনের শেয়ার ১৪ শতাংশের বেশি কমেছে। নির্মাণসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান জিই ভারনোভার শেয়ার কমেছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং কনস্টেলেশন এনার্জির ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

এদিকে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেবিয়াস, আইরেন ও এনস্কেলের কিছু ডাটা সেন্টার প্রকল্পের ওপর নজরদারি আরও কঠোর করছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদরও ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

আরও