দাম নিয়ন্ত্রণে রুশ জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরো এক দফা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এ ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত দেশটির বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের তীব্র ক্ষোভের মুখেই ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

গত সোমবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেন, মার্কিন ট্রেজারি দপ্তর রাশিয়ার জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর নতুন করে আরো ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা মওকুফের লাইসেন্স জারি করবে। ফলে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সাময়িকভাবে কেনার সুযোগ পাবে বিশ্বের সবচেয়ে সংকটাপন্ন দেশগুলো। এর আগে গত মার্চে প্রথমবার এ সুযোগ দেয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয়বারের মতো এ সময়সীমা বাড়াল।

গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে হোয়াইট হাউজ। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এরই মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পেট্রল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা অনুযায়ী, ইরানে যুদ্ধের কারণে মার্কিন নাগরিকদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি শুধু জ্বালানি বাবদ খরচ হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি বিপজ্জনক উপহার দেয়া হলো। এ সুযোগ ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে আর্থিক সুবিধা দেবে। তবে মার্কিন প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তা করার পাশাপাশি চীনের সস্তা জ্বালানি তেল মজুদের প্রবণতা কমাতেই সাময়িকভাবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আরও