পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড—এআরটি) আওতায় বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করলে আগামী ৩০ বছর এবং তারপরেও যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্কে আরো ইতিবাচক ফলাফল দেখা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত গালা সন্ধ্যায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অ্যামচ্যামের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ৩০ বছর পূর্তিতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশকে অভিনন্দন। গত ৩০ বছর ধরে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে, তেমনি আমি আত্মবিশ্বাসী যে, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করলে আগামী ৩০ বছর এবং তার পরেও আমরা আরো ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পাব।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কে তিন দশকের অবদানের জন্য অ্যামচ্যামকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আগামী পাঁচ বছরে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার অ্যামচ্যামের লক্ষ্যে সরকারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, এ বিনিয়োগ যেন কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টিতে রূপান্তরিত হয়। এ জন্য নীতির পূর্বানুমেয়তা ও ধারাবাহিকতা, ব্যবসা সহজীকরণ, দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং বিনিয়োগবান্ধব নিয়ন্ত্রক পরিবেশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, তিন দশক আগে একটি স্বপ্ন থেকে শুরু করে অ্যামচ্যাম ব্যবসা, বিনিয়োগ ও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য আগামী দুই বছরের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, মেধাস্বত্ব অধিকার ও সাইবার নিরাপত্তায় অধিকতর মনোযোগ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
একই সঙ্গে অ্যামচ্যাম ও এর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও সক্ষমতাকে আরো সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সহসভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ ‘অ্যামচ্যাম এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন। অ্যামচ্যামের বর্তমান ও সাবেক নেতারা, সদস্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সরকারের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত এবং অ্যামচ্যামের তিন দশকের পথচলা নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।