সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অডেমার পিগে। প্রতিষ্ঠানটি এবার ব্যবহৃত ঘড়ির পুনর্বিক্রয় বাজারে প্রবেশ করেছে। এ লক্ষ্যে ‘দ্য ওয়াচ কিপার্স’ নামে একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে নিজেদের পুরনো ঘড়ি বিক্রি করতে পারবেন মালিকরা। অন্যদিকে ক্রেতারা পাবেন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা লাক্সারি ঘড়ি কেনার সুযোগ।
বিশ্বজুড়ে সেকেন্ড হ্যান্ড বাজারে বিলাসবহুল ঘড়ির চাহিদা বাড়ছে। এ বাজারে নিজেদের ভূমিকা বাড়াতে চায় অডেমার পিগে। নতুন প্লাটফর্মটির মাধ্যমে ঘড়ি জমা নেয়া, সত্যতা যাচাই, তালিকাভুক্ত করা এবং বিক্রি—পুরো প্রক্রিয়াটি তদারক করবে প্রতিষ্ঠানটি।
অডেমার পিগের সার্টিফায়েড প্রি-ওনড বিভাগের পরিচালক মার্ক মনতানিয়ে উদ্যোগটিকে গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, ঘড়ি সংগ্রাহকদের মধ্যে এ ধরনের সেবার চাহিদা অনেক।
প্রাথমিকভাবে সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের কয়েকটি বাজারে চালু হবে দ্য ওয়াচ কিপার্স। পরে ধাপে ধাপে অন্য বাজারেও সেবাটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের লে ব্রাসুসে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর থেকে প্লাটফর্মটি পরিচালিত হবে। এ কাজে আঞ্চলিক সেবা কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে অডেমার পিগে।
প্লাটফর্মটির মাধ্যমে ঘড়ি কেনা বা বিক্রি করতে হলে গ্রাহকদের প্রথমে নিবন্ধন করতে হবে। বিক্রেতাকে ঘড়ির সিরিয়াল নম্বর ও মালিকানার প্রমাণ জমা দিতে হবে। এরপর বীমা সুবিধাযুক্ত কুরিয়ারের মাধ্যমে ঘড়িটি অডেমার পিগের সেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।
সব ব্যবহৃত ঘড়ি এ প্লাটফর্মে বিক্রির জন্য গ্রহণ করা হবে না। ঘড়িটি প্রথমবার বিক্রির পর অন্তত দুই বছর পার করতে হবে। এ শর্তের মাধ্যমে মূল বিক্রি ও পুনর্বিক্রয়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান রাখা হয়েছে।
ঘড়ি হাতে পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কারিগররা সেটি পরীক্ষা করবেন। এ সময় ঘড়ির সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নথির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে ঘড়িটির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে।
পরীক্ষা শেষে ঘড়িটির ছবি তুলে প্লাটফর্মে তালিকাভুক্ত করা হবে। সেখানে ঘড়ির কেস, ডায়াল ও ব্রেসলেটসহ বিভিন্ন অংশের অবস্থা পাঁচ ধাপে মূল্যায়ন করে দেখানো হবে। এতে সম্ভাব্য ক্রেতারা কেনার আগে ঘড়িটির অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাবেন।
বিক্রেতারা চাইলে নির্দিষ্ট দাম ঠিক করে ঘড়ি বিক্রির প্রস্তাব দিতে পারবেন। আবার নিলাম বা দর হাঁকার ব্যবস্থাও বেছে নিতে পারবেন।
ঘড়ি বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত সেটির মালিকানা বিক্রেতার কাছেই থাকবে। তবে তালিকাভুক্ত থাকার সময় ঘড়িটি নিরাপদে সংরক্ষণের দায়িত্ব নেবে অডেমার পিগে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দামি ও বিলাসবহুল ঘড়ির অনেক মডেলের মান বছরের পর বছর প্রায় একই থাকে। ফলে ব্যবহৃত হলেও এগুলোর ভালো দাম পাওয়া যায়।
খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস