শিল্পগোষ্ঠীটির দাবি, এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়ন হলে প্রায় ৪৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক কৃষিকাজের আওতায় যুক্ত হবেন প্রায় ৪০ হাজার কৃষক।
শেলটেক গ্রুপের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল জানানো হয়, নতুন বিনিয়োগের একটি বড় অংশ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। বাকি প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেয়া হবে যৌথ উদ্যোগে, ব্যাংক ঋণ ও বৈদেশিক অর্থায়নের মাধ্যমে।
শেলটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা এবং দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শিল্প উৎপাদন, রফতানি আয় ও কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
শিল্পগোষ্ঠীটি জানিয়েছে, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ খাতে স্পেনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত স্পেন-বাংলাদেশ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডে এরই মধ্যে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সেখান থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে পণ্য রফতানিও চলছে।
প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৪০ হাজার কৃষক চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন। পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে এ প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবাসন খাতে রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় শেলটেক লিগ্যাসি প্লাজা নামে ১৭তলা আধুনিক শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণে ৫৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। প্রায় দুই লাখ বর্গফুট বাণিজ্যিক স্পেস নিয়ে নির্মিতব্য ভবনটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব লিড (এলইইডি) সনদপ্রাপ্ত গ্রিন বিল্ডিং হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া জলসিঁড়ি আবাসন এলাকায় যৌথ উদ্যোগে ২৬৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে ২১টি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানানো হয়।
উৎপাদন খাতে সিলেটে দেশের একমাত্র অ্যাব্রেসিভ পেপার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাইন্ডটেক লিমিটেডে এরই মধ্যে ৮৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে বস্ত্র খাতে ব্লেন্ডেড সুতার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেডে প্রায় ১৭৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এ সম্প্রসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রুপটির বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে মোট ১০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি তাদের টেকসই উন্নয়ন কৌশলের অংশ।
১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শেলটেক গ্রুপ বর্তমানে আবাসন, নির্মাণ, প্রিমিয়াম ওয়াল ও ফ্লোর টাইলস, বৈদ্যুতিক পোল, কৃষি, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল, হসপিটালিটি এবং বিভিন্ন সেবা খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে। বর্তমানে শিল্পগোষ্ঠীটির বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। নতুন প্রকল্পগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে টার্নওভার ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।