১৯ জুলাই প্রকাশিত এক খসড়া প্রজ্ঞাপনে এ সংশোধনীর ওপর পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করা হয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়ায় ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর মার্জিন ঋণ দেয়ার সীমা বৃদ্ধি, সংরক্ষিতব্য মার্জিন, বাধ্যতামূলক বিক্রয় প্রক্রিয়া এবং মার্জিন ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা ও পিই রেশিওতে (মূল্য-আয় অনুপাত) গুরুত্বপূর্ণ পরিমার্জন আনা হয়েছে।
বিএসইসির মূল বিধিমালার ৭(৯) বিধিতে মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত মূলধন বা নিট সম্পদের সর্বোচ্চ তিন গুণ পর্যন্ত মার্জিন ঋণ দেয়ার সুযোগ পেত। খসড়া সংশোধনীতে এ সীমা বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মূলধন বা নিট সম্পদের (যেটি বেশি) সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বাজারে নিবন্ধিত স্টক ব্রোকার ও পূর্ণ সেবার মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর তারল্য সংস্থান ও ঋণ সক্ষমতা বাড়বে।
সংরক্ষিতব্য মার্জিন ৭০ শতাংশ ও ফোর্সড সেল ৫০ শতাংশ খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, মার্জিন হিসাবে গ্রাহকের সর্বক্ষণিক ইকুইটি মার্জিন ঋণের অন্তত ৭০ শতাংশ বজায় রাখতে হবে। ইকুইটি ৭০ শতাংশের নিচে নামলে মার্জিন অর্থায়নকারী লিখিত, ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে অনতিবিলম্বে মার্জিন কল দেবে। পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহক ইকুইটি ৭০ শতাংশে উন্নীত করতে ব্যর্থ হলে তাকে নতুন কোনো ঋণ দেয়া যাবে না, তবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন মনে করলে শেয়ার বিক্রি করে হিসাব সমন্বয় করতে পারবে।
দণ্ড বা দরপতনের কারণে ইকুইটি যদি মার্জিন ঋণের ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তবে কোনো পূর্ব নোটিস ছাড়াই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শেয়ার আবশ্যিকভাবে বিক্রি করে হিসাব সমন্বয় করতে পারবে। ফোর্সড সেলের নির্দেশ সত্ত্বেও বাজার পরিস্থিতির কারণে অবিলম্বে বিক্রি কার্যকর না হলে উদ্ভূত ক্ষতির দায় ঋণদাতার ওপর বর্তাবে না।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিতে কোনো গ্রাহকের সর্বনিম্ন ৩ লাখ টাকার নিজস্ব বিনিয়োগ না থাকলে তিনি মার্জিন ঋণের আওতাভুক্ত হবেন না। সাধারণ কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিই রেশিও ৩০-এর বেশি হলে কিংবা শেয়ারপ্রতি আয় ঋণাত্মক থাকলে তাকে মার্জিন ঋণ দেয়া যাবে না।
ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক খাতের ক্ষেত্রে পিইর বদলে প্রাইস টু বুক ভ্যালু অনুপাত সর্বোচ্চ ৩ বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে বীমা (ইন্সুরেন্স) কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে এ অনুপাত সর্বোচ্চ ১ হতে পারবে।
মূল বোর্ডের এন ও জেড ক্যাটাগরি এবং এসএমই, এটিবি ও ওটিসি প্লাটফর্মে তালিকাভুক্ত কোনো সিকিউরিটিতে মার্জিন ঋণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। সিকিউরিটিতে প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ঝুঁকি কমাতে মোট মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ কোনো একক সিকিউরিটিতে দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা মূল বিধিমালার খসড়ায় ১৫ শতাংশ ছিল। তবে কোনো একক গ্রাহককে দেয়া ঋণের ২০ শতাংশের বেশি একটি সিকিউরিটিতে প্রয়োগ করা যাবে না।
বিধিমালা ও অভ্যন্তরীণ নীতিমালা তদারকিতে প্রতিটি মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম দুই সদস্যের একটি ‘ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করতে হবে, যারা বছরে অন্তত চারটি বৈঠক করে কার্যবিবরণী পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করবে। গবেষণা দলের সদস্যদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সরাসরি ব্রোকারেজ ট্রেডিং কমিশনের আয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাবে না মর্মে শর্ত যুক্ত হয়েছে। মার্জিন চুক্তির মেয়াদ এক বছর হলেও কোনো পক্ষ লিখিতভাবে বাতিল না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে।