আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি সরকারি, বহুজাতিক ও দেশীয় ‘ব্লু চিপ’ কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে চায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গতকাল ডিএসইর নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ লক্ষ্যের কথা জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।
মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে নতুন ও ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি হচ্ছে না। দুই বছরের বেশি সময় ধরে উল্লেখযোগ্য কোনো আইপিও বাজারে আসেনি। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে বাজারে মানসম্পন্ন কোম্পানি আনতে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের নতুন বিধিমালার খসড়া করা হয়েছে। নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে সরকারি, বহুজাতিক ও দেশীয় কোম্পানির পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হবে।’
পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান ডিএসই চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘সরকার বিদেশী প্রতিষ্ঠান ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংককে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পুঁজিবাজারে এসে কেউ যাতে প্রতারিত না হয়, বিনিয়োগকারী যে অর্থ এখানে বিনিয়োগ করছেন সেখান থেকে যাতে তিনি ভালো রিটার্ন পেতে পারেন সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি।’
এদিকে পুঁজিবাজারে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসই। ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা থাকা ১৭ হাজার ৩৩২ বিনিয়োগকারীকে মোট ৭২ কোটি টাকা পরিশোধ করবে ডিএসইর ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ)। ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যায়ক্রমে এ অর্থ পরিশোধ শুরু হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৯৭ শতাংশ তাদের পাওনা সম্পূর্ণ ফেরত পাবেন।
ডিএসই চেয়ারম্যান জানান, ‘৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রথমে মশিহুর সিকিউরিটিজের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ দেয়া শুরু হবে। এরপর ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বানকো সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ ও শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানির ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর অর্থ দেয়া হবে।’
ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন তার বক্তব্যে বলেন, ‘আজকে আমরা একটি সূচনা করতে পেরেছে এবং এর মাধ্যমে কিছুটা দায়মুক্তও হতে পেরেছি। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এজন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ৫ লাখ টাকার বাইরেও আরো যাদের পাওনা রয়েছে তাদেরকে ভবিষ্যতে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পুঁজিবাজারের লেনদেন ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ চলছে বলে জানান ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্টক এক্সচেঞ্জ নাসডাকের মাধ্যমে ম্যাচিং ইঞ্জিন তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আইপিএফের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম, বিএসইসি এবং ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুঁজিবাজারে অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি আরো জোরদার করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। কোনো ধরনের অনিয়মের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসই, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ (সিডিবিএল) ও সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশসহ (সিসিবি) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসই।