ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক কোম্পানি উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত পাঁচটি সম্পত্তি পুনর্মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এ সম্পত্তিগুলোর মূল্য ছিল ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে, সম্পত্তিগুলো অধিগ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত সেগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক পুনর্মূল্যায়ন করা হয়নি। সম্পত্তিগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণের জন্য উত্তরা ফাইন্যান্স বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত যোগ্য ও স্বনামধন্য মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পেশাদার মূল্যায়ন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সম্পত্তিগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণের জন্য পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। পুনর্মূল্যায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে কোম্পানিটি। এর মধ্যে প্রাসঙ্গিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ও স্টক এক্সচেঞ্জে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলে তা পূরণ করাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৮ আগস্ট এক চিঠির মাধ্যমে উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। আর্থিক কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর ২০(১) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পর্ষদ বিলুপ্ত করার পর কোম্পানিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
উত্তরা ফাইন্যান্স সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৫ টাকা ৯৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ৭৪ পয়সায়।
১৯৯৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত উত্তরা ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৩১ কোটি ৪৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫৯৭ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার ১৩ কোটি ১৪ লাখ ৮১ হাজার ৫০৪টি। এর ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩১ দশমিক ৫৩ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারী ৭ দশমিক ৮২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৬ দশমিক ২১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।