রাশিয়া চলতি বছর জ্বালানি তেলের সার্বিক উত্তোলন সামান্য কমাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার (পিএম) আলেকজান্ডার নোভাস্ক। গত বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে তিনি এ তথ্য জানান। তবে এটি সম্পূর্ণ সাময়িক একটি পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় শোধনাগারগুলোর নির্ধারিত মেরামতকাজ শেষ হলেই তেল উত্তোলন আবার বাড়তে শুরু করবে।
ভ্লাদিভোস্তকে আয়োজিত একটি অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নোভাস্ক জানান, প্রাথমিক পূর্বাভাসের তুলনায় দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন সাময়িকভাবে কিছুটা কমেছে। মূলত কিছু শোধনাগারে অনির্ধারিত সংস্কারকাজ চলমান থাকায় সেগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না। পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হলে এবং শোধনাগারগুলো পুরোদমে চালু হলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়বে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
তার এ বক্তব্যের আগে রাশিয়ার সরকার একটি খসড়া পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, এ বছর দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের পূর্বাভাস ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জ্বালানি রফতানি লক্ষ্যমাত্রাও কমিয়ে এনেছে দেশটি। মূলত ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে যে প্রভাব পড়েছে, তারই অংশ হিসেবে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জাতীয় বাজেট তৈরির সুবিধার্থে সেপ্টেম্বরের শেষে এ পূর্বাভাস চূড়ান্ত করা হবে। মে মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় নতুন এ প্রাক্কলনে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর জ্বালানি তেল উত্তোলন ১ কোটি ৬০ থেকে ২ কোটি টন কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক বাজারের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে ওপেক প্লাসের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন নোভাস্ক। রয়টার্সের তথ্যমতে, গত জুলাইয়ে জোটটি বিশ্বজুড়ে মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় একটি স্থানীয় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে জোটটি। তা সত্ত্বেও বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওপেক প্লাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে।’ সদস্য দেশগুলোর বিশাল উত্তোলনক্ষমতার কারণে বিশ্ববাজারে জোটটির নেয়া সিদ্ধান্ত আগামীতেও বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন তিনি।