ঋণ ও ইকুইটির মাধ্যমে এ অর্থায়ন করা হবে। পাশাপাশি কোম্পানিটির পর্ষদ কারখানা-সংলগ্ন এলাকায় ৫০ দশমিক ৩৭ শতাংশ জমি কেনার বিষয়েও অনুমোদন দিয়ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ২৫২তম সভায় বর্তমান কারখানা প্রাঙ্গণে ওপেন-এন্ড (রোটর) স্পিনিং উৎপাদন সক্ষমতা বিদ্যমান দৈনিক ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ টনে উন্নীত করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বিদ্যমান উৎপাদন প্রক্রিয়ার উচ্ছিষ্ট বা ‘রিকভারড ম্যাটেরিয়ালস’ ব্যবহার করে সুতা উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং বর্তমান অব্যবহৃত সক্ষমতাকে কাজে লাগানো। উৎপাদিত সুতা কোম্পানির নিজস্ব ডেনিম উৎপাদনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবহৃত হবে, যা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সমন্বয় এবং সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৯ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যার ৭০ শতাংশ ঋণ ও ৩০ শতাংশ ইকুইটির মাধ্যমে সংস্থান করা হবে। সম্প্রসারিত এ প্রকল্পে অত্যাধুনিক ওপেন-এন্ড রোটর স্পিনিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বর্তমান খরচ ও বাজারমূল্যের ধারণা অনুযায়ী, প্রকল্পটি সাত বছর মেয়াদি ঋণ পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ তৈরি করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটির বিনিয়োগ উঠে আসার সময় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ বছর ৮ মাস। এছাড়া ১৫ বছরের প্রকল্প মেয়াদে ইকুইটির বার্ষিক রিটার্নের হার ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রকল্পের বার্ষিক রিটার্নের হার ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।
একই সভায় কোম্পানিটির পর্ষদ ময়মনসিংহের ভালুকার কারখানা-সংলগ্ন এলাকায় ৫০ দশমিক ৩৭ ডেসিমল জমি কেনার অনুমোদন দিয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য খরচসহ এ জমির মোট আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৯ লাখ টাকা। জমিটি মূলত কারখানার ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহৃত হবে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৮৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬ টাকা ৩ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬১ টাকা ২১ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে এনভয় টেক্সটাইলের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে এনভয় টেক্সটাইলসের ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৫৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৮ টাকা ৩২ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে এনভয় টেক্সটাইলসের ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৯৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ৯৩ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে এনভয় টেক্সটাইলসের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৯৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৫৭ পয়সায়।
এনভয় টেক্সটাইলসের সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স এনটিটি রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ ওয়ান’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএবি)।
২০১২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এনভয় টেক্সটাইলসের অনুমোদিত মূলধন ৪৭৫ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৬৭ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭০০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬ কোটি ৭৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৬৭। এর ৬৫ দশমিক ৪১ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২২ দশমিক ৭৬, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক ২৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১১ দশমিক ৫৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।