চট্টগ্রামে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

বন্ধ শিল্প-কারখানার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় সরকার

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিল দুটির বর্তমান অবস্থা, কার্যক্রম ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

বন্ধ ও উৎপাদন কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান অবকাঠামো ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। গতকাল চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলস ও এশিয়াটিক কটন মিলস পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এ গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি মিল দুটির সার্বিক কার্যক্রম, অবকাঠামো, উৎপাদন সক্ষমতা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরে তিনি চট্টগ্রামের নো ভিউ গেস্ট হাউজও পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিল দুটির বর্তমান অবস্থা, কার্যক্রম ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এ সময় বস্ত্র ও পাট খাতের উন্নয়ন, শিল্পসম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাটশিল্পের রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং বিপুল সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো, জনবল ও উৎপাদন সক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল এবং পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বিশ্ববাজারে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অন্যদিকে বস্ত্র ও টেক্সটাইল খাত দেশের শিল্পায়ন, রফতানি আয় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ দুটি খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

শরীফুল আলম বলেন, ‘শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিদ্যমান সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া গেলে শিল্প খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় শিল্পসম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট করপোরেশন ও কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম জাহিদ হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও