স্থাপত্যের মর্যাদাপূর্ণ ‘রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার ২০২৬’ জিতেছে রংপুরে অবস্থিত কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের গ্রিন ফিল্ড কারখানা। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে। রিবার ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিচারকরা ভবনটিকে ‘নীরব নম্রতার এক নিদর্শন’ বলে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের নকশায় নির্মিত সাততলা কারখানাটি মূলত গালিচা ও বস্ত্র উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ পুরস্কার জয়ের তথ্য জানিয়ে বলা হয়, কারখানাটির প্রধান স্থপতি বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের কোনো স্থাপনা এ পুরস্কার পেল। এর আগে ২০১৬ সালে সাতক্ষীরায় নির্মিত ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এ স্বীকৃতি পেয়েছিল। হাসপাতালটির নকশা করেছিলেন স্থপতি কাশেফ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান আরবানা।
পুরস্কার জয়ের ঘোষণা দিয়ে রিবার ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের নকশায় তৈরি এ কারখানা নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি বিকল্প মডেল তুলে ধরেছে। রংপুরে অবস্থিত গ্রিন ফিল্ড কারখানাটি প্রচলিত কর্মপরিবেশের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। পাশাপাশি কারখানাটি সেখানে কর্মরত অধিকাংশ নারী শ্রমিকের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
রিবার ওয়েবসাইটে বলা হয়, গালিচা তৈরির এ কারখানা শুধু কর্মস্থল নয়, এখানে কর্মীদের সুবিধা ও সুস্থতার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশের সব দিককে কাজে লাগানো হয়েছে।
রিবা বলছে, গ্রিন ফিল্ড কারখানা দক্ষিণ এশিয়া ও এর বাইরের অঞ্চলগুলোতে উৎপাদন শিল্পের স্থাপত্যের ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। এটি প্রমাণ করে, সুচিন্তিত নকশার মাধ্যমে প্রচলিত স্তরবিন্যাস ভেঙে সমাজ ও পরিবেশে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনা সম্ভব।
কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড শতভাগ রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান। এর উদ্যোক্তা সফিকুল আলম সেলিম। রংপুরের কারখানাটিতে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী কাজ করেন, যাদের অধিকাংশই নারী। প্রচলিত শিল্প-কারখানার ধারণা থেকে বেরিয়ে কর্মীদের সুস্থতা, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ ও সামাজিক যোগাযোগকে গুরুত্ব দিয়ে ভবনটি নকশা করা হয়েছে। বাংলার ঐতিহ্যবাহী বসতবাড়ির আদলে এতে খোলা উঠান, প্রশস্ত বারান্দা, বাগান ও সবুজে ঘেরা সম্মুখভাগ রাখা হয়েছে। প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিকভাবে ভবন ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে এতে।