প্রাইমারি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের সুরক্ষা এবং রফতানি সক্ষমতা ধরে রাখতে জরুরি নীতিসহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধার পরিবর্তে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ বহাল রাখাসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এ সময় দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে বিটিএমএর পক্ষ থেকে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে শিল্প খাতে, বিশেষ করে টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শিল্পের উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রফতানি সক্ষমতা সুরক্ষায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের নেয়া উদ্যোগের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। একই সঙ্গে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
দেশের জাতীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী রফতানি সক্ষমতা সুরক্ষায় বিটিএমএর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিতভাবে নীতিগত সহায়তার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৭ সেপ্টেম্বরের আদেশ অনুযায়ী এইচএস ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাধীন ১০-৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত রফতানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
বিটিএমএর দাবি, এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য কটন সুতা আমদানির পরিমাণ কমবে। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি করা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সুতার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
নন-বন্ডেড শিল্পের ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহালেরও দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী রফতানি সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সব রফতানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বিত টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল কম্পিটিটিভনেস পলিসি প্রণয়নের অনুরোধও জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে শুল্ক, কর, জ্বালানি, অর্থায়ন, রফতানি সহায়তাসহ সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
এছাড়া শিল্প খাতে বর্তমানে উন্নত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অব্যাহত রেখে প্রয়োজনীয় চাপসহ নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে কার্যকর নজরদারি, যাচাই ও আইনানুগ ব্যবস্থা আরো জোরদারেরও অনুরোধ করা হয়েছে।
বিটিএমএর এসব প্রস্তাবের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি গুরুত্ব ও মনোযোগের সঙ্গে শুনেছেন বলে সংগঠনটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জের গুরুত্ব উপলব্ধি করে তিনি বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।
সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন, জন বিভাগের সচিব এজেএম সালাহউদ্দিন নাগরী ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন। বিটিএমএর পক্ষে সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শামীম ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম সরকারসহ সংগঠনের সাবেক সহসভাপতি, বর্তমান ও সাবেক পরিচালক এবং অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।