মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাবে এ বছরের মার্চ থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক উত্থান-পতন দেখা গেছে। জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরকার মধ্যেও এ সময়ে এশিয়ার নির্বাচিত পুঁজিবাজারগুলোর তুলনায় ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাতটি দেশের পুঁজিবাজারের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রিটার্ন দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। এ সময়ে সূচকটির রিটার্ন ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে পাকিস্তানের পুঁজিবাজারে রিটার্ন ছিল ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। বাকি পাঁচ দেশের পুঁজিবাজারে এ সময়ে নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।
তথ্যানুসারে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে মালয়েশিয়ার পুঁজিবাজারে রিটার্ন ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৯ শতাংশ, ভিয়েতনামে ঋণাত্মক ৪ দশমিক ২, শ্রীলংকায় ঋণাত্মক ৭ দশমিক ৩, ভারতে ঋণাত্মক ৯ দশমিক ৭ ও ইন্দোনেশিয়ায় ঋণাত্মক ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এ সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যারেলপ্রতি ৬১ ডলারে থাকা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০২৬ সালের মার্চে বেড়ে ১১৮ ডলারে ওঠে। পরে সেপ্টেম্বর শেষে তা কমে ১০৪ ডলারে দাঁড়ায়। অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। শুধু মার্চেই দাম বেড়েছিল প্রায় ৬৩ শতাংশ।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের এমন মূল্যবৃদ্ধি আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে। বাংলাদেশের মতো দেশে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা, উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন খরচের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন খাতের কোম্পানির মুনাফা ও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে। তবে তেলের দামের ওঠানামাই পুঁজিবাজারের রিটার্ন নির্ধারণ করে না; দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সুদহার, কোম্পানির আয়, নীতিগত অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
মার্চ-সেপ্টেম্বর সময়ে তুলনামূলক ইতিবাচক রিটার্নের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরেও আঞ্চলিক বাজারগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সূচকের পতন ছিল সবচেয়ে কম। সেপ্টেম্বরে ডিএসইএক্স কমেছে দশমিক ৮৫ শতাংশ। একই সময়ে শ্রীলংকার পুঁজিবাজারে সূচক কমেছে ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৩ দশমিক ৪৭, পাকিস্তানে ৩ দশমিক ৯৬, মালয়েশিয়ায় ৪ দশমিক ৩৩, ভারতে ৫ দশমিক ৮২ ও ইন্দোনেশিয়ায় ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মাস শেষে ডিএসইএক্সের অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৫৫০ পয়েন্টে। সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে হুথিদের হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২ শতাংশ বেড়েছিল।
গত সেপ্টেম্বরে আঞ্চলিক পুঁজিবাজারগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সূচকের পতন সবচেয়ে কম থাকলেও এ সময়ে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন আগের মাসের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে দরপতন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাজারের বিস্তৃতিতেও দুর্বলতার ইঙ্গিত ছিল। ফলে আঞ্চলিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের সূচক কম কমলেও বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও শেয়ারদরের সামগ্রিক প্রবণতাও দুর্বল ছিল। তাছাড়া সেপ্টেম্বরের পর চলতি অক্টোবরেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নিম্নমুখিতা অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫ হাজার ৫৫০ পয়েন্টে। সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর লেনদেন শেষে সূচকটির অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৫১ পয়েন্ট। এ সময়ে ৯৯ পয়েন্ট হারিয়েছে সূচকটি।