আবাসন ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ

এক দশকে ২০ লাখ বসতবাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য সিরিয়ার

উদ্ভূত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ও জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০ লাখ ঘরবাড়ি নির্মাণ ও সংস্কারের বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার।

দীর্ঘ এক দশকের সংঘাত ও বিধ্বংসী যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তীব্র আবাসন সংকটের মুখে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়া। উদ্ভূত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ও জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০ লাখ ঘরবাড়ি নির্মাণ ও সংস্কারের বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার। খবর দ্য ন্যাশনাল।

সিরিয়ার পাবলিক ওয়ার্কস অ্যান্ড হাউজিং বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ইমাদ আল-মাসরি দেশটির বার্তা সংস্থাকে জানান, সরকারি বিনিয়োগ, বেসরকারি পুঁজি ও আন্তর্জাতিক যৌথ অংশীদারত্বের মাধ্যমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আবাসন নির্মাণে প্রয়োজনীয় জমি সরবরাহ করবে সরকারি সংস্থা জেনারেল হাউজিং এস্টাবলিশমেন্ট। অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা আবাসন প্রকল্প তৈরি ও মূল অবকাঠামোগত ভিত্তি গড়ে তুলবে।

বর্তমানে দামেস্কের পশ্চিমাঞ্চলসহ হোমস্, হামা, লাতাকিয়া, তারতুস, আলেপ্পো ও দেইর এজ-জোর এলাকায় থমকে যাওয়া আবাসন প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর দেশটিতে বিদেশী বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে গৃহযুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত ও বিদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ নাগরিক এখন দেশটিতে ফিরতে শুরু করেছেন বলে উল্লেখ আছে প্রতিবেদনে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্যানুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৭ লাখেরও বেশি সিরীয় নাগরিক নিজ দেশে ফিরেছেন। এতে দেশজুড়ে গুণগত মানের বাড়ি ও ফ্ল্যাটের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

দেশটির সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালে সিরিয়ায় ১৯ লাখ আবাসন ঘাটতি ছিল। নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে ঘাটতি ২৫ লাখ ইউনিটে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সহকারী মন্ত্রী ইমাদ আল-মাসরি।

সিরিয়ার বর্তমানে প্রায় ৪২ লাখ ৫০ হাজারের মধ্যে ১৩ লাখেরও বেশি বসতবাড়ি সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। এ সংকটকে সুযোগ হিসেবে দেখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবাসন খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা সিরিয়ায় পা রাখছেন।

আরও