সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, গত বছর বিশ্বজুড়ে মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল জিডিপির প্রায় ৯৪ শতাংশ। তবে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকলে ২০২৯ সালের মধ্যে এ ঋণের পরিমাণ ১০০ শতাংশে পৌঁছতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
আইএমএফের প্রতিবেদন বলছে, বৈশ্বিক সংকট তীব্র হলে বিশ্বজুড়ে ঋণের পরিমাণ এতটাই বাড়তে পারে যে সরকারগুলোকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ সামাল দেয়া এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে।
আইএমএফের সর্বশেষ ‘ফিসকাল মনিটর’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল ও খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে যুদ্ধ, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারগুলো অধিক ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্ব ইতিহাসে এর আগে কেবল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিশ্বঋণের হার এ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এরই মধ্যে ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে প্রথম দফার বিমান হামলার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে, যা নতুন করে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং আর্থিক পরিস্থিতি সংকীর্ণ হয়ে আসছে। আইএমএফের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এক কঠিন উভয় সংকটের সম্মুখীন। একদিকে ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্য থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা। অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ঋণের বোঝা নিয়ন্ত্রণ করা।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলছে, সংঘাতের আরো বিস্তার ঘটলে তা একটি বৈশ্বিক মন্দার সূত্রপাত করতে পারে। এ মন্দার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে যুক্তরাজ্যের ওপর, যা জি৭ ভুক্ত অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আইএমএফ পরামর্শ দিয়েছে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে কোনো ভর্তুকি বা সহায়তা কর্মসূচি দেয়া হলে তা যেন অবশ্যই সুনির্দিষ্ট ও সাময়িক হয়। যেসব দেশের আর্থিক অবস্থা বর্তমানে নড়বড়ে, তাদের নতুন করে ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল না দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, নতুন করে ঋণ না নিয়ে বরং সরকারি ব্যয়ের খাতগুলো পুনর্বিন্যাস করা এবং সংকটের গুরুত্ব অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ করাই হবে সময়পযোগী কাজ।
আইএমএফ আরো বলছে, অতিরিক্ত ঋণ ও ক্রমবর্ধমান সুদ শেষ পর্যন্ত সরকারগুলোকে অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেবে। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত ঋণ সরকারি বন্ড মার্কেটকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক ঋণের পরিমাণ গত এক বছরে রেকর্ড প্রায় ২৯ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে মোট ৩৪৮ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। করোনা মহামারীর পর এক বছরে ঋণের এমন বিশাল উল্লম্ফন আর দেখা যায়নি।
সংস্থাটি জানায়, গত বছরের ২৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ বাড়ার মূল কারণ ছিল বিভিন্ন দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশগুলোর সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বড় অংকের বিনিয়োগ ঋণের এ বোঝাকে আরো ভারী করেছে।