চীনের অর্থনীতির আকার চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বেড়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। রফতানি আয় বাড়ায় আগের প্রান্তিকের তুলনায়ও বেড়েছে তৃতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি। তবে অর্থনীতির এ সম্প্রসারণের বিপরীতে দুর্বল রয়েছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা। আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী মন্দা, ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থান ও আয় প্রবৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। খবর আনাদোলু।
সরকারি পরিসংখ্যানে গত সোমবার এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল দেশটির সবচেয়ে ধীর প্রবৃদ্ধি। সে তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। একই সঙ্গে এ হার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও চীনের অর্থনীতিতে এখনো নানা দুর্বলতা রয়েছে। রফতানির ওপর নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদাও কমেছে। ফলে উৎপাদন বাড়লেও বিদেশের বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে চীনা উৎপাদকদের।
চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি এখন রফতানি। গত মাসে দেশটির রফতানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে গত বছরের রেকর্ড ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্তকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক। তবে এর প্রভাব সামাল দিতে চীনা রফতানিকারকরা নতুন বাজারের দিকে ঝুঁকছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপে পণ্য বিক্রি বাড়ানোর চেষ্টা করছে দেশটি। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, হাইব্রিড গাড়ি ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির মতো উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য রফতানি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর রফতানি নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি কমাতে চীন দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও ইভির মতো বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব শিল্পে সরকার থেকে বড় অংকের ভর্তুকিও দেয়া হয়েছে।
তবে উৎপাদন বাড়লেও দেশের ভেতরে ভোগব্যয় একই গতিতে বাড়েনি। ফলে অনেক পণ্য বিদেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এতে রফতানি বাড়ে ঠিকই, কিন্তু উৎপাদন বাড়ার সুফল অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে সমানভাবে পৌঁছায় না।
বিএনপি পারিবাস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ একাতেরিনা বিগোসের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ও রফতানিকেন্দ্রিক এ অর্থনৈতিক মডেল কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের আয় বাড়ানোয় সীমিত ভূমিকা রাখছে। এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের কারণে কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিও বাড়ছে।