প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের সচেতন করছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল)।

এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিশেষ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব, বর্জ্য পৃথক্‌করণ এবং দায়িত্বশীলভাবে প্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়। ইউবিএলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।

জানা যায়, ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছে ইউবিএল, চসিক ও ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। এ উদ্যোগের আওতায় এরই মধ্যে নগরীর ১১১টি স্কুল ও মাদরাসায় তিন রঙের বর্জ্য পৃথক্‌করণ বিন স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী তা আলাদা করার প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে এ অভ্যাস চর্চার সুযোগ পাচ্ছে।

ইউবিএল বলছে, সচেতনতামূলক এ কার্যক্রমের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত স্কুল ও মাদরাসার সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।

পাহাড়তলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রুহুল কুদ্দুস খান, ফ্যাক্টরি ডিরেক্টর এসএম তারেক সাইফুল্লাহ এবং ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় ইউবিএলের এমডি ও সিইও রুহুল কুদ্দুস খান প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব ও সঠিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি নির্ধারিত স্থানে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য পৃথক করা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।

এ কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত মানুষের সক্ষমতা এবং সুরক্ষা উন্নয়নেও কাজ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে পরিচালিত উদ্যোগটির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং মৌলিক ব্যবসায়িক দক্ষতা বিষয়ে তিন হাজার বর্জ্য কর্মী ও ২২০ জন ভাঙারি ব্যবসায়ীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় দুই হাজার বর্জ্য কর্মীকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেয়া হয়েছে এবং ১ হাজার ৮২৭ জনকে গ্রুপ বীমার আওতায় আনা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বাড়ি বাড়ি সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমেও প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বার্তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার পরিবারকে বর্জ্য পৃথক্‌করণ ও দায়িত্বশীল প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।

আরও