আইএমএফের পূর্বাভাস

এআই খাতে বিনিয়োগে চলতি বছর বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩% ছাড়াবে

এশিয়ার দেশগুলো এর সুফল পাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এর প্রভাবে এশিয়ার উন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ভূমিকা রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোয় বাড়তি বিনিয়োগ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানিসংক্রান্ত ধাক্কা সত্ত্বেও এআই খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতি ৩ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, এআই প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ তৈরি ও সরবরাহ করে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো। খবর রয়টার্স।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সোমবার আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম দিনে এসব কথা বলেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তিনি বলেন, ‘এআই খাতে রেকর্ড বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রভাব এরই মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। বিশ্বজুড়ে পণ্য ও সেবার চাহিদার পাশাপাশি বাড়ছে মূলধনপ্রবাহ।’

এশিয়ার দেশগুলো এর সুফল পাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এর প্রভাবে এশিয়ার উন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে উদীয়মান এশীয় দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি বাড়বে অতিরিক্ত দশমিক ২ থেকে দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ায় থাইল্যান্ডের মতো দেশও উপকৃত হতে পারে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ খাতের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর আগে গত জুলাইয়ে ২০২৬ সালের জন্য ৩ শতাংশ বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল আইএমএফ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এআইয়ের প্রভাব শুধু বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জর্জিয়েভা।

তিনি বলেন, ‘এআই এমন একটি প্রযুক্তি, যা ধীরে ধীরে অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনবে। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরির কাজে এআইয়ের প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যে কিছু কাজের দক্ষতা বাড়বে, কিছু কাজের গুরুত্ব কমবে ও কিছু বিলুপ্তও হতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রে করা একটি প্রাথমিক গবেষণার কথা উল্লেখ করে জর্জিয়েভা বলেন, ‘দেশটির ১০ শতাংশ চাকরিতে এরই মধ্যে এআই-সংক্রান্ত দক্ষতার প্রয়োজন পড়ছে। অন্যদিকে নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের সুযোগ কমছে। তবে নির্মাণ ও ডেটা সেন্টারের মতো তুলনামূলক কম বেতনের কিছু খাতে চাকরির চাহিদা বাড়ছে।’

আরও