পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে টাস্কফোর্স গঠন হবে —অর্থ উপদেষ্টা

দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, কয়েক মাসের মধ্যে দৃশ্যমানভাবে জিনিসপত্রের দাম কমে আসবে, এমনটাই দেখতে পারবেন।

গতকাল সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বায়িং হাউজের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। 

পাচারের অর্থ ফেরত আনতে টাস্কফোর্স গঠনের কথা বললেও এ নিয়ে বিশদ কিছু জানাননি অর্থ উপদেষ্টা। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে এ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন, অর্থ বিভাগ, এনবিআর, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইত্যাদি সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘আলু, পেঁয়াজের শুল্ক কমিয়ে দিয়েছি, এগুলো যাতে নিশ্চিত করে সেটার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। এছাড়া মাছ, মাংস, ডিমের বিষয়ে কথা বলেছি, বাজার মনিটরিংয়ের কথা বলেছি।’ কতদিনের মধ্যে দাম কমার বিষয় দৃশ্যমান হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অলরেডি টাস্কফোর্স হচ্ছে তো।’

বায়িং হাউজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা বলেছেন ডিরেক্টর ছাড়া বায়িং হাউজের মাধ্যমে অনেক সময় অর্ডার দেয়া হয়। রফতানির ক্ষেত্রেও সহায়তা করে। এমন কিছু ব্যাপার রয়েছে। যেমন ইপিবির রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক, অর্ডারের বিষয়ে সমস্যা সমাধান করলে রফতানি বাড়বে। আমরা বলেছি রফতানি আরো বেড়ে ৫০ বিলিয়ন হবে, তারা বলেছেন ১০০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। আমি বলেছি এটা আমরা দেখব, যেটা ভালো হয় সেটা করব।’

এছাড়া সচিবালয়ে আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি ওই মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা। বৈঠকে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে আরো ডলার চাওয়া হবে। পাওয়া গেলে এ অর্থের যেন অপচয় না হয়, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞান গবেষণার আউটপুট কাজে না লাগলে উন্নয়ন অর্থবহ হবে না। গবেষণা ও গবেষণার প্রয়োগের ফলেই দেশের প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।’ এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ অনুভব করুক যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নামের একটি মন্ত্রণালয় আছে। শুধু রূপপুর (রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প) দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজ শেষ না। নিজেদের কাজ দিয়ে প্রমাণ করতে হবে।’

এর আগে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ সোয়া ৪ লাখ কোটি টাকা।

আরও