স্বর্ণের বাজারে মন্থরগতি

ইটিএফ বিক্রি করছেন এশিয়ার বিনিয়োগকারীরা

বিশ্ববাজারে রেকর্ড উত্থানের পর এখন স্বর্ণের দামে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের সবচেয়ে বড় দুই ক্রেতা দেশ চীন ও ভারতে হঠাৎ কমে গেছে মূল্যবান এ ধাতুর চাহিদা। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বাড়ার আভাস এবং শেয়ারবাজারের চাঙ্গা ভাবের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এশিয়ার বাজারে মন্থরগতি দেখা দেয়ায় বিনিয়োগকারীরা গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) বিক্রি করে দিচ্ছেন। খবর নিক্কেই এশিয়া।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে স্বর্ণের দাম সাত মাসে প্রথমবার আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলারের নিচে নামে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি রেকর্ড ৫ হাজার ৩০০ ডলারে উঠেছিল। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরবৃদ্ধি এবং ডলার শক্তিশালী হওয়ায় পরে দাম আর তেমন বাড়েনি।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) জানায়, মে মাসে এশিয়ার গোল্ড ইটিএফগুলো যে পরিমাণ তহবিল তুলেছে, তা ২০২৫ সালের আগস্টের পর এই প্রথম। অথচ মে মাস পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের ইটিএফ লেনদেনের ১৯ শতাংশই আসত এশিয়ার বাজার থেকে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আবার ভারতে স্বর্ণের আমদানি শুল্ক বাড়ায় ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা ইটিএফ বিক্রি করে দেন। চীনে ইউয়ানের বিনিময় হার শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের চাহিদা কমেছে।

তাছাড়া এআই বা স্পেসএক্সের মতো বড় কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ায় সাধারণ মানুষ এখন স্বর্ণ বিক্রি করে সেদিকে ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বর্ণের এ মন্দা ভাব সাময়িক। বছরের শেষ নাগাদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় বাড়লে এবং নতুন কোনো ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দাম আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তখন স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি সাড়ে ৫ হাজার ডলারের নতুন রেকর্ডও স্পর্শ করতে পারে।

আরও