মার্কিন এলএনজি আমদানিতে ভারতের রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওই বছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস।

মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত ২৫২ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বা ৭১৪ কোটি ঘনমিটার এলএনজি আমদানি করেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত ৫৫৬ কোটি ঘনমিটার এলএনজি আমদানি করে, যা তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত কী পরিমাণ এলএনজি আমদানি করেছে, তা এখনো প্রকাশ হয়নি। তবে এটি যুক্ত হলে আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড এলএনজি রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ছাড়িয়ে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারীতে পরিণত হয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম স্থানে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেক দেশ কাতার।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসের অ্যাসোসিয়েট এডিটোরিয়াল ডিরেক্টর কেনেথ ফু বলেন, ‘বর্তমানে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারের অন্যতম প্রধান রফতানিকারক যুক্তরাষ্ট্র। তরলীকরণ সক্ষমতার দ্রুত উন্নতির কারণে কাতার ও অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলেছে দেশটি।’

গ্যাস এক্সপোর্টিং কান্ট্রিস ফোরামের (জিইসিএফ) তথ্যানুসারে, গত বছর ভারতের মোট এলএনজি আমদানি ৩ হাজার ৬৪৩ কোটি ঘনমিটারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে জিইসিএফ দেশের হিস্যা ৭২ দশমিক ৭১ ও নন-জিইসিএফ দেশের ২৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

নন-জিইসিএফ দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব সবচেয়ে বেশি। ২০২১ সালে এ হার ছিল ৬৪ দশমিক ৫৯, যা ২০২২ সালে কিছুটা কমে ৫৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। তবে ২০২৩ সালে ৭০ দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত হয় এবং গত বছর ৭১ দশমিক ৮৩ শতাংশে পৌঁছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের এলএনজি আমদানি আরো বাড়তে পারে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি ১ হাজার ৫ হাজার কোটি থেকে বেড়ে বছরে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্ট ডেলয়েট ইন্ডিয়ার অংশীদার অশ্বিন জ্যাকব বলেন, ‘‌ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির এ প্রবণতা সামনের বছরগুলোয়ও অব্যাহত থাকতে পারে।’

আরও