ব্যাংক ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের ওপর প্রযোজ্য হারে আবগারি শুল্ক আরোপ এবং যথাসময়ে সরকারি কোষাগারে জমাদানের বিধান ছিল। যা পরবর্তীতে পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমে সব ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ড অ্যাকাউন্টের ওপরেও আরোপ করা হয়েছে। ঋণ অ্যাকাউন্ট ও ক্রেডিট কার্ড অ্যাকাউন্টের ওপর বিদ্যমান এ আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার চেয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিবি)। তাদের দাবি, এতে রাজস্ব আদায়ে বৈষম্য দূর হবে এবং করদাতার দ্বৈত করভার হ্রাস পাবে।
সোমবার (১৭ মার্চ) আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনায় এবিবি এ দাবি জানিয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
ভ্যাট সফটওয়্যারের বাস্তবায়ন, মূসক নিরীক্ষা কার্যক্রম সমাপ্তির সময় সুনির্দিষ্ট করা, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অনিবাসীকে ঋণের সুদ পরিশোধের সময় উৎসে আয়কর কর্তনের ক্ষেত্রে আগের মতো অব্যাহতির মেয়াদ বর্ধিত করার প্রস্তাবও দিয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের করপোরেট আয়করের হার ৩০ শতাংশ হ্রাস করা এবং সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য অভিন্ন করপোরেট করের হার প্রণয়ন, ব্যাংকে মেয়াদি আমানতের হিসাব খোলা ও বহাল রাখা, ঋণ বিতরণ ও ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করার ক্ষেত্রে পিএসআর দাখিলের বাধ্যবাধকতার বিধান প্রত্যাহার করে শুধু টিআইএন দাখিলের বিধান পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়েছে এবিবি।
এবিবির বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রহমান। এ সময় ব্র্যাক ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বীমা খাতে সুনামের অভাব আছে জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডর (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘এ খাতে গভর্নেন্সের (সুশাসন) জি-ও নাই। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক বছর আগে আমার কাছে একজন সাংবাদিক এল। তিনি জানালেন, একজন বীমা কোম্পানির কর্মকর্তা বাসায় থাকতে পারছেন না। গ্রাহকের পলিসি ম্যাচিউরড হওয়ার পরও কোম্পানি টাকা দিচ্ছে না। এই হলো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অবস্থান। এটাই সত্য। উন্নয়ন সহযোগীরা দেশের বীমাকে প্রমোট করতে বলছে। কিন্তু এসব কারণে এটা আগায় না।
আলোচনায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ সংগঠনের পক্ষে বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। সংগঠনটি করপোরেট কর হ্রাস করা, স্বাস্থ্যবীমার ওপর ট্যাক্স কর্তন রহিত করা, অনলাইন ভিত্তিক বীমা প্রিমিয়ামের ওপর ভ্যাট ও করপোরেট কর রহিত করার প্রস্তাব জানিয়েছে।
বীমা কোম্পানিগুলো উন্নত দেশের মতো হেলথ কার্ডের প্রচলন করতে না পারার সমালোচনা করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘হেলথ ইন্স্যুরেন্স ভালোভাবে দিতে পারলে বাংলাদেশের মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়বে।’
এছাড়া বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনগুলো পুঁজিবাজারে কর অব্যাহতির প্রস্তাব দেয়।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, সারা জীবন কর অব্যাহতি দিলাম, রেজাল্ট তো আসে না। আগেই কেন অব্যাহতির কথা আসে। সবার আগে কেন ট্যাক্স হলিডে লাগবে? কর অব্যাহতির সংস্কৃতিতে আর থাকতে চাই না। অব্যাহতি দিতে দিতে নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত থেকে বের হতে পারছি না। আমাদের বদনাম হয়ে গেছে যে রাজস্ব যা আদায় করি, তার সমপরিমাণ অব্যাহতি দিই।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে যত সুবিধা দেয়া হয়েছে, মার্কেটে তার বেনিফিট পাওয়া যায়নি। গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে তাদের ৭ থেকে ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল হারিয়েছে। আমার অব্যাহতি সংস্কৃতি থেকে বের হচ্ছি। আমরা পণ করেছি অব্যাহতি আর দেব না। অব্যাহতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি।