প্রতিকূল আবহাওয়া কেটে যাওয়া ও বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার সুবাদে গত সেপ্টেম্বরে চীনের কারখানাভিত্তিক উৎপাদন খাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। টানা দুই মাস সংকোচনের পর দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং সূচক ফের ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। তবে রফতানিনির্ভর এ প্রবৃদ্ধি এগোলেও আবাসন খাতের সংকট ও অভ্যন্তরীণ ভোগ কমে যাওয়া সার্বিক অর্থনীতিকে এখনো চাপের মুখে রেখেছে। খবর রয়টার্স।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশটির অফিশিয়াল ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) বেড়ে ৫০ দশমিক ১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। আগস্টে সূচকটি ছিল ৪৯ দশমিক ৮ পয়েন্ট। সাধারণত পিএমআই সূচক ৫০ পয়েন্টের ওপরে থাকলে সংশ্লিষ্ট খাতে প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে, এর নিচে থাকলে সংকোচন বোঝায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, চূড়ান্ত ফল ঠিক তেমনই এসেছে।
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত মাসে কারখানাগুলোয় নতুন পণ্যের ক্রয়াদেশ বা নতুন অর্ডারের সূচক দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৫ পয়েন্টে। একই সময় সার্বিক উৎপাদন সূচক বেড়ে ৫১ দশমিক ৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। হংকংভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গুওতাই হাইতোং সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ হাও ঝো বলেন, ‘চীন সরকারের সাম্প্রতিক আর্থিক নীতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তবে আবাসন খাতের সংকট কাটিয়ে পরিবারের ঋণের বোঝা কমাতে না পারলে অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়ানো কঠিন হবে।’
সরকারি তথ্যের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেটিংডগের জরিপের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই বেড়ে ৫২ দশমিক ১ পয়েন্টে উঠে এসেছে, যা পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সূচকটি আগস্টে ছিল ৫১ দশমিক ৫ পয়েন্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বাজারে ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্যের বাড়তি চাহিদার ওপর নির্ভর করে চীন প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এতে পণ্য রফতানিতে বিশাল উদ্বৃত্ত তৈরি হয়ে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো চীনের পণ্য বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর পথে রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ভালো করলেও দেশের অভ্যন্তরে খুচরা বিক্রি এবং নতুন বিনিয়োগে মন্দা কাটেনি।
আইএনজি ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ লিন সং মনে করেন, চীন কৌশলগত খাতগুলোয় যেমন এআই, প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতা ও শিল্পের আধুনিকায়নে প্রচুর বিনিয়োগ করছে।
কিন্তু অর্থনীতিকে পুরোপুরি স্থিতিশীল করতে হলে অনুন্নত ও পিছিয়ে পড়া খাতগুলোর সংস্কার জোরদার করা জরুরি।