ফেব্রুয়ারি মাসে ১ দশমিক ১ পয়েন্ট কমেছে পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) মান। তবে পয়েন্ট কমলেও সম্প্রসারণের ধারায় আছে দেশের অর্থনীতি। টানা পাঁচ মাস ধরে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি এ ধারায় চলছে। যদিও জানুয়ারি মাসে আগের মাসের তুলনায় পিএমআই মান ৪ পয়েন্ট বেড়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে এসে তা আবার ১ দশমিক ১ পয়েন্ট কমে গিয়েছে। মূলত নির্মাণ ও সেবা খাতের ধীর সম্প্রসারণের কারণেই এ মান কমেছে বলে দাবি করছেন পিএমআই সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (৯ মার্চ) সর্বশেষ পিএমআই যৌথভাবে প্রকাশ করে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি)। সংস্থা দুটি প্রতি মাসেই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দেশের অর্থনীতির প্রধান চারটি খাত—কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতের ওপর জরিপ চালিয়ে তৈরি করা এ প্রতিবেদনের মান ১০০-এর মধ্যে নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে পিএমআই মান ৫০ এর নিচে হলে দেশের অর্থনীতি সংকোচন ও ৫০ এর বেশি হলে সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে বলে বোঝানো হয়।
ফেব্রুয়ারি মাসের পিএমআই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কৃষি ও উৎপাদন খাতের পিএমআই আগের মাসের তুলনায় যথাক্রমে ৭ দশমিক ৮ ও ৪ দশমিক ১ করে বেড়ে ৬৬ দশমিক ৪ ও ৭২ দশমিক ৬-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে; যা আগের মাসে ছিল ৫৮ দশমিক ৬ ও ৬৮ দশমিক ৫।
তবে কৃষি ও উৎপাদন খাতের পিএমআই বাড়লেও কমেছে নির্মাণ ও সেবা খাতের। নির্মাণ খাতে আগের মাসের পিএমআই মান ৬৩ থেকে ৩ দশমিক ৪ পয়েন্ট কমে ৫৯ দশমিক ৬-এ গিয়ে ঠেকেছে। আর সেবা খাতে কমেছে ৫ পয়েন্ট। এ খাতের জানুয়ারি মাসের পিএমআই ছিল ৬৬ দশমিক ৩; যা ফেব্রুয়ারিতে ৬১ দশমিক ৩-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফেব্রুয়ারির পিএমআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পিএমআই সূচক টানা পাঁচ মাসের স্থায়ী সম্প্রসারণ নির্দেশ করে, যা রফতানি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা এবং কৃষিতে মৌসুমী প্রবৃদ্ধি দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। তবে নির্মাণ ও সেবা খাতে ধীর সম্প্রসারণ দেখা গেছে। দুর্বল চাহিদা, জ্বালানি বিভ্রাট ও চলমান বিক্ষোভের কারণে ব্যবসায়িক আস্থা এখনো আগের মতোই কম থেকে গিয়েছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও অগ্রাধিকারমূলক সংস্কারের দ্রুত বাস্তবায়নের ওপরই টেকসই পুনরুদ্ধার নির্ভর করে।