ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে সুদহার অপরিবর্তিত

চেয়ারম্যান পদের মেয়াদ শেষে হলেও ফেড ছাড়ছেন না পাওয়েল

ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ আগামী ১৫ মে শেষ হচ্ছে। এর আগে তিনি জানান, ফেডের সংস্কার নিয়ে হোয়াইট হাউজের তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে তিনি বোর্ড থেকে পদত্যাগ করবেন। কিন্তু স্থানীয় সময় গতকাল তিনি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতি-নির্ধারণী বোর্ড ফের সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সুদহার কমানোর অব্যাহত চাপ থাকা সত্ত্বেও গতকাল এ ঘোষণা দেয়া হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, মে মাসে চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদ শেষ হলেও ফেড বোর্ড থেকে এখনই সরছেন না জেরোম পাওয়েল। ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

উল্লেখ্য, চলতি বছর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সুদহার অপরিবর্তিত রাখল সংস্থাটি। ফেড কর্মকর্তারা তাদের সিদ্ধান্তে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ধীরগতির কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ আগামী ১৫ মে শেষ হচ্ছে। এর আগে তিনি জানান,

ফেডের সংস্কার নিয়ে হোয়াইট হাউজের তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে তিনি বোর্ড থেকে পদত্যাগ করবেন। কিন্তু স্থানীয় সময় গতকাল তিনি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানান।

পাওয়েল বলেন, ‘গত তিন মাসের ঘটনাবলি আমাকে বোর্ডে থাকতে বাধ্য করেছে। ফেডারেল রিজার্ভকে কোনোভাবেই রাজনীতির আবর্তে ফেলা উচিত নয়।’

কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে সুবিধা দেয়া ফেডের কাজ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বোর্ড বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উঁচুতে রয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বেকারত্বের হার এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতিও আশানুরূপ নয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইরান যুদ্ধের অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। জ্বালানি তেলের চড়া দাম মার্কিন অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, যা ফেডকে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখছে।

এদিকে মার্কিন সিনেটের ব্যাংকিং কমিটি সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ারশকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিশ্চিত করার পথে এক ধাপ এগিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়ারশ বর্তমান চেয়ারম্যান পাওয়েলের তুলনায় ট্রাম্পের ‘সুদহার কমানো’র দাবির প্রতি বেশি নমনীয় হবেন।

আরও