অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াতে পারে ওপেক প্লাস

ইরান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ সংকট সত্ত্বেও দৈনিক তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস। ৭ জুন জোটের আসন্ন বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, ওপেক প্লাসের শীর্ষ সাতটি দেশ আগামী জুলাইয়ের জন্য দৈনিক তেল উৎপাদনের সম্মিলিত লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়াতে পারে। তবে এ বিষয়ে ওপেক, সৌদি আরব বা রাশিয়া এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) পর্যন্ত জ্বালানি তেল উৎপাদন অপরিবর্তিত ছিল ওপেক প্লাসের। তবে এপ্রিল থেকে প্রতি মাসেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়। মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বাড়ার গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউএইর বিদায়ে বিশ্ববাজারে জোটের প্রভাব কিছুটা কমলেও অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা সহজ হবে।

ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জোটের দৈনিক তেল উৎপাদন ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। এপ্রিলে তা নেমে এসেছে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর উৎপাদন কমেছে দৈনিক ৯৯ লাখ ব্যারেল।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যেই রয়েছে সৌদি আরব, ইরাক ও কুয়েতের মতো প্রধান রফতানিকারকরা, যাদের প্রয়োজনে অতিরিক্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন করার সক্ষমতা রয়েছে। ৭ জুনের বৈঠকে মূলত সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান, রাশিয়া ও ওমান—সাত দেশ অংশ নেবে। এছাড়া ২০২২ সালে নেয়া দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমার মূল সিদ্ধান্তটি চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

আরও