এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াতে সমুদ্রের তলদেশে কেবল নেটওয়ার্ক গড়ছে মেটা প্লাটফর্মস। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সকে যুক্ত করতে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ মাইল দীর্ঘ একটি সাবমেরিন কেবল বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘পেটাল’ নামের কেবলটি ২০২৯ সালে চালু হওয়ার কথা। মেটার দাবি, সমুদ্র পাড়ি দেয়া প্রথম কেবল হবে এটি, যা প্রতি সেকেন্ডে পেটাবিট (এক হাজার টেরাবিট) মাত্রার তথ্য পরিবহন করতে পারবে। খবর ফরচুন।
মেটা সম্প্রতি ‘পেটাল’ নামে নতুন সাবমেরিন কেবল প্রকল্পটির ঘোষণা দেয়। বিভিন্ন মহাদেশের ডেটা সেন্টার ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত আদান-প্রদানের সক্ষমতা বাড়ানো এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের অবকাঠামোর গুরুত্বও বাড়ছে।
সাবমেরিন কেবল অবশ্য মেটার জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। গত এক দশকে এ খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মেটার তথ্য অনুযায়ী, এ সময় প্রতিষ্ঠানটি ২০টির বেশি সাবমেরিন কেবল প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। এসব প্রকল্পের নেটওয়ার্ক অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশকে যুক্ত করছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্যোগগুলোর একটি হলো ‘প্রজেক্ট ওয়াটারওয়ার্থ’। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটির ঘোষণা দেয় মেটা। এর আওতায় তৈরি হচ্ছে ৩১ হাজার মাইলের বেশি দীর্ঘ একটি সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ক। দৈর্ঘ্যের দিক থেকে এটি পৃথিবীর পরিধির চেয়েও বেশি। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারতসহ পাঁচ মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে এ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের হিসাবে, ওয়াটারওয়ার্থ প্রকল্পের ব্যয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মেটা একাই এসব কেবল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে না। পেটাল প্রকল্পে জাপানের এনইসি ও সুমিতোমো ইলেকট্রিক ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফ্রান্সের আটলান্টিক উপকূলে কেবল অবতরণের কাজ করবে ফরাসি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জ।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কেবল প্রকল্পে অংশীদারত্ব রয়েছে মেটার। ২০১৭ সালে চালু হওয়া মেরিয়া কেবল এর একটি উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া থেকে স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত এ প্রকল্পের মালিকানায় মেটার সঙ্গে রয়েছে মাইক্রোসফট ও টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলসিয়াস।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মেটার এ বিনিয়োগের মূল কারণ এআই। এআই মডেল তৈরি ও চালাতে বিপুল পরিমাণ তথ্য এক ডেটা সেন্টার থেকে অন্যটিতে পাঠাতে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবহারকারীদের কাছেও এসব সেবা পৌঁছে দিতে হয়। তাই ডেটা সেন্টারের পাশাপাশি দ্রুতগতির তথ্য আদান-প্রদানের অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এদিকে অবকাঠামোয় বিনিয়োগের কারণে মেটার ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছর মূলধনি ব্যয় বা ক্যাপেক্স সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে এআই অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে বড় অংকের বিনিয়োগ রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা প্লাটফর্মস। ২০০৪ সালে ফেসবুক নামে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্কে। পরে ২০২১ সালে ফেসবুক ইনকরপোরেটেডের নাম পরিবর্তন করে মেটা প্লাটফর্মস করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে রয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মতো জনপ্রিয় প্লাটফর্ম। বিজ্ঞাপন মেটার প্রধান আয়ের উৎস। একই সঙ্গে ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়ালিটি, এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তি খাতেও বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এখন এআইকে ভবিষ্যৎ ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে মেটা। সে অনুযায়ী এআই মডেল, কম্পিউটিং সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে কয়েক বছর ধরে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করছে।