ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে লোকসান পুষিয়ে নিতে চলতি মাসে আজ তৃতীয়বারের মতো খুচরা পর্যায়ে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থাগুলো। খবর রয়টার্স।
নতুন দামে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ৮৭ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯৯ রুপি ৫১ পয়সা। আর ডিজেলের দাম ৯১ পয়সা বাড়িয়ে ৯২ রুপি ৪৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিলাররা।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা ভারত। এমন কয়েকটি বড় অর্থনীতির একটি, যারা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক বাজারে দামের উল্লম্ফনের পরও খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে দেরি করেছিল।
তিন দফা মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশটির জ্বালানি তেলের দাম ৫ রুপি পর্যন্ত বেড়েছে। ১৫ মে ঘোষিত মূল্যবৃদ্ধি ছিল চার বছরের মধ্যে ভারতে প্রথম জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।
২০২২ সালের এপ্রিলের মতো এবারও ধাপে ধাপে পেট্রল পাম্পে বিক্রয় মূল্য বাড়াচ্ছে কোম্পানিগুলো। ওই সময় উত্তরাঞ্চলীয় উত্তর প্রদেশসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর খুচরা মূল্য বাড়ানো হয়েছিল।
বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে মূল্যবৃদ্ধি পিছিয়ে দিয়েছিল।
তবে জ্বালানি পরিশোধনাগার-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, লোকসান কাটিয়ে উঠতে আরো মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
ভারত পেট্রলিয়াম (বিপিসিএল)-এর চেয়ারম্যান চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেছেন, দাম বাড়ানো হলেও ডিজেলে প্রতি লিটারে ২৫-৩০ রুপি এবং পেট্রোলে ১০-১৪ রুপি পর্যন্ত ক্ষতির মুখে রয়েছে কোম্পানিটি।
ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিশোধনাগারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
ভারত পেট্রলিয়াম, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ও হিন্দুস্তান পেট্রলিয়াম ভারতের ১ লাখ ৩ হাজার জ্বালানি স্টেশনের ৯০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে এবং সাধারণত সমন্বিতভাবেই তারা জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে।