মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে হামলা ও সংঘাত বাড়ায় অঞ্চলটি থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আজ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি উঠল। খবর রয়টার্স।
আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আজ সকালে ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ২২ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯৪ ডলার ১৩ সেন্টে ওঠে।
গত মাসের শুরুর দিকের তুলনায় ব্রেন্টের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা কমে আসা এবং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে গতকাল মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরো তীব্র হয়। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে হামলা চালায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবও সংঘাতে আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।
চলমান যুদ্ধের মধ্যে এটি বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা। এদিন মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পাশাপাশি কয়েকটি জাহাজেও হামলা করে।
ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেন, ‘ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সীমার কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে দাম বাড়ার গতি আরো জোরালো হচ্ছে।’
সাম্প্রতিক এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে আরো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে অঞ্চলটির জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলার কারণে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানান, সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে কিছু তেল রফতানি করছে। তবে দেশটিতে ধারাবাহিক হামলা হলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ওসিবিসির বিশ্লেষকরা এক নোটে বলেন, ‘সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের ঘটনায় তেল সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’
তারা আরো বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে এশিয়ায়। কারণ এ অঞ্চলের অনেক অর্থনীতি আমদানি করা জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
সচদেভা বলেন, ‘ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারে পৌঁছানোকে শুধু একটি মনস্তাত্ত্বিক সীমা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কসংকেত।’